কেন্দুয়ায় ১৫ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় ৩ জনের মৃত্যু

নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় গত ১৫ ঘণ্টায় পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন স্কুলছাত্র, একজন প্রবাসফেরত যুবক ও অন্যজন পাঁচ বছর বয়সী শিশু। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
আজ বুধবার দুপুরে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন কেন্দুয়া থানার ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের নোয়াদিয়া (গন্ডবপুর) গ্রামের আব্দুল বারেক মিয়ার ছেলে আবির মিয়া (১৪) মারা যায়। সে নোয়াদিয়া একতা উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পারিবারিক কলহের জেরে নিজ বসতঘরে গলায় ফাঁস দিয়ে সে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।
এদিকে, একই দিন রাত সাড়ে ৮টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবিদ হোসেন (২২) নামে এক প্রবাসফেরত যুবকের মৃত্যু হয়।
এর আগে মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার রোয়াইলবাড়ী ইউনিয়নের পুরানবাড়ী গ্রামে বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে এনামুল হকের পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী বকুল মিয়ার দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বকুল মিয়ার সমর্থকেরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এনামুল হকের পরিবারের ওপর হামলা চালান। এতে এনামুল হক ও তার ছেলে আবিদ গুরুতর আহত হন।
স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার অবনতি হলে তাদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবিদের মৃত্যু হয়। তার বাবা এনামুল হক বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। স্বজনদের ভাষ্য, তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।
অন্যদিকে, বুধবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার মাসকা ইউনিয়নের বালিজুড়া গ্রামে পুকুরের পানিতে ডুবে মুকিত (৫) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়। সে গ্রামের বাপ্পি মিয়ার ছেলে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, সকালে বাড়ির পাশে খেলতে যায় মুকিত। একপর্যায়ে সবার অগোচরে পাশের পুকুরে পড়ে যায় সে। পরে পরিবারের সদস্যরা তাকে পানিতে ভাসতে দেখে উদ্ধার করেন। এরপর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ওসি মুহাম্মদ তরিকুল ইসলাম বলেন, তিনটি পৃথক ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। স্কুলছাত্র আবিরের পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শিশু মুকিতের মরদেহও কোনো অভিযোগ না থাকায় পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তবে আবিদ হোসেনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এসব ঘটনায় পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।




