রাষ্ট্র পুনর্গঠন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের জন্য সুশিক্ষিত জাতি গঠন অপরিহার্য: ড. খন্দকার মারুফ

ছবি: আগামীর সময়
কুমিল্লার মেঘনায় সদ্য অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গাজী মো. আনোয়ার হোসেন ও অবসর নেওয়া প্রাথমিক শিক্ষকদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে মেঘনা উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট ড. খন্দকার মারুফ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্র কাঠামো পুনর্গঠন, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সুশিক্ষিত জাতি গঠন অপরিহার্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা পদ্ধতি বাস্তবায়নের জন্য বর্তমান সরকার নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। গত সাত মাসে শিক্ষাসহ সব ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে গেছে। নতুন শিক্ষা ব্যবস্থায় বিশ্বমানের শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন, লেখাপড়ার সুষ্ঠু ও উন্নত পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারেক রহমানের আধুনিক ভাবনা এবং নেতৃত্বের কোনো বিকল্প নেই।’
ড. খন্দকার মারুফ বলেন, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সরকার অত্যন্ত আন্তরিক। এ জন্য ইতোমধ্যে নানা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক প্রশিক্ষণের মেয়াদ ও পিটিআইয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন শিক্ষকদের জন্য সমন্বিত প্রশিক্ষণ চালু, ইংরেজি বিষয়ে প্রশিক্ষণ, ধারাবাহিক দক্ষতা উন্নয়ন ও সমন্বিত শিক্ষক নীতি প্রণয়ন, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, ডিজিটাল কনটেন্ট, ইন্টারনেট সংযোগ ও স্মার্ট ক্লাসরুম তৈরির উদ্যোগ।
তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি এবং নতুন শিক্ষক নিয়োগের আইনি জটিলতা নিরসন ও দুর্গম অঞ্চলের শিক্ষকদের বিশেষ ভাতা দেওয়ার বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনায় রয়েছে। ২০২৭ সালের মধ্যে সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘মিড-ডে মিল’ চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য বর্তমান সরকার শিক্ষাঋণ এবং উচ্চশিক্ষার জন্য বিশেষ সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তিনি। নারীদের জন্য স্নাতকোত্তর এবং ছেলেদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে বলে দাবি করেন ড. খন্দকার মারুফ।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়ার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় থাকে, শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন হয়। বিএনপি সরকার অতীতে এবং বর্তমানে সব পাবলিক পরীক্ষা নকলমুক্ত করে শিক্ষাক্ষেত্রে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।’
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের মদদে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সিট দখল, অস্ত্রের ঝনঝনানি, সন্ত্রাসী তাণ্ডব চালিয়ে শিক্ষার পরিবেশ বিনষ্ট করেছে। আওয়ামী লীগ সরকার পাবলিক পরীক্ষায় ঢালাওভাবে পাসের হার বাড়িয়ে শিক্ষা ব্যবস্থাকে সমূলে ধ্বংস করেছে।’
দেশে গণতন্ত্র ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে দাবি করে ড. খন্দকার মারুফ বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে প্রতিহিংসার রাজনীতির পরিবর্তে প্রধানমন্ত্রীর সূচিত সুস্থ ধারার উন্নয়নের রাজনীতি ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে টেকসই উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছে। একটি দল বাকশাল প্রতিষ্ঠা করে মানুষের বাকস্বাধীনতা হরণ, মানবাধিকার লঙ্ঘিত ও গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল। বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সুস্থ ধারার রাজনীতি, টেকসই গণতন্ত্র ও উন্নয়ন, আইনের শাসন এবং মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরন্তর কাজ করছেন।’
মেঘনা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেঘনা উপজেলা বিএনপি নেতা মো. রমিজউদ্দিন লন্ডনী, এস.এম. সালাহউদ্দিন সরকার, এম.এম. মিজানুর রহমান, প্রফেসর শহীদ উল্লাহ, আবু ইউসুব নয়ন, দিলারা শিরীন এবং যুবদল নেতা আতাউর রহমান চেয়ারম্যান প্রমুখ।



