একযুগ ধরে মসজিদে বিনাবেতনে আজান দিচ্ছেন হোসেন আলী

হোসেন আলী
যখন রাতের অন্ধকার গড়িয়ে দিনের আলো উদ্ভাসিত হয় ঠিক সেই মুহূর্তে টাঙ্গাইলের সখীপুরের বড়চওনা ইউনিয়নের গায়েনমোড় এলাকার বাইতুল ফালাহ জামে মসজিদের মাইক থেকে ভেসে আসে আজানের মধুর সুর। এই মসজিদে বিনাবেতনে আজান দেন এলাকার হোসেন আলী।
প্রায় একযুগ আগে প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই মসজিদটির সঙ্গে যুক্ত হন হোসেন আলী। তিনি উপজেলার বড়চওনা ইউনিয়নের গায়েনমোড় এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা।
হোসেন আলী বলেন, মসজিদ হচ্ছে আল্লাহর ঘর। মানুষকে আল্লাহর ঘরে নামাজের জন্য ডাকা সওয়াবের কাজ। এখানে বেতনের হিসাব-নিকাশ আমি করি না। সমাজের একজন মানুষ হিসেবে এটা আমার কর্তব্য।
স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছেও হোসেন আলীর মসজিদে আজান দেওয়া ও অন্যান্য সেবা করার বিষয়টি প্রশংসিত।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম সানী বলেন, ‘হোসেন আলী ভাই খুবই ভালো মানুষ। ভোরবেলায় তার কণ্ঠে ফজরের আজান শুনেই আমার ঘুম ভাঙে। তারপর আমি নামাজের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে মসজিদে চলে যাই নামাজ আদায় করার জন্য।’
মসজিদের ইমাম মাওলানা মুজিবুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বিনাবেতনে এই মসজিদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। মহান আল্লাহতাআয়ালা নিশ্চয়ই তাকে এর উত্তম প্রতিদান দান করবেন।
বড়চওনা গ্রামের বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আতিকুল হক সমীর বলেন, হোসেন আলী ভাই দীর্ঘদিন ধরে বিনামূল্যে মসজিদে আজান দিচ্ছেন ও মসজিদের অন্যান্য খেদমতে কাজ করছেন। এটি প্রশংসনীয় একটি বিষয়।
বড়চওনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আজহারুল ইসলাম বলেন, হোসেন আলী ভাই অনেক ভাগ্যবান একজন মানুষ। আমি তার দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ ছবুর রেজা বলেন, হোসেন আলী ভাই মসজিদে প্রায় ১২ বছর ধরে বিনামূল্যে আজান দেওয়া, মসজিদের আঙিনা পরিষ্কার রাখা ও মসজিদের অন্যান্য খেদমতের কাজ করছেন। বিষয়টি খুবই প্রশংসনীয়।






