বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ: সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে কয়েকশ ফিশিং ট্রলার

বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে মাছ ধরারত শত শত ফিশিং ট্রলার ফিরে এসেছে কূলে, ছবি: মহিদুল ইসলাম
লঘুচাপের প্রভাবে অশান্ত হয়ে উঠেছে বঙ্গোপসাগর। আজ শুক্রবার সকাল থেকেই শুরু হয় প্রবল ঝোড়ো হাওয়া। উঁচু উঁচু ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাগরে। এর ফলে বন্ধ হয়ে গেছে ইলিশ আহরণ। বৈরী আবহাওয়ায় গভীর সাগরে মাছ ধরারত শত শত ফিশিং ট্রলার ফিরে এসেছে কূলে। ফিরে আসা এসব ট্রলার আশ্রয় নিয়েছে নিকটবর্তী সুন্দরবনসহ উপকূলের বিভিন্নস্থানে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন উপকূলীয় এলাকার ট্রলার মালিক, মৎস্য ব্যবসায়ী ও মৎস্য সংগঠনের নেতারা।
৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে গিয়ে এমন দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে পড়ে ফিরে আসতে হচ্ছে জেলেদের। একেকটি ট্রলারে লাখ লাখ টাকা বিনিযোগ করে এখন দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বাগেরহাটের শরণখোলাসহ উপকূলের ট্রলার মালিক, জেলে, আড়ৎদার ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। দু-এক দিনে আবহাওয়া স্বাভাবিক না হলে মৌসুমের শুরুতেই বড় ধরণের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন মৎস্য সংশ্লিষ্টরা।
শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের আড়ৎদার মো. কবির হাওলাদার ও ট্রলার মালিক মজিবর তালুকদার জানালেন, শুক্রবার সকাল থেকেই জেলেরা মাছ ধরা বন্ধ করে সাগর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরতে শুরু করে। মোবাইল নেটওয়ার্কের আওতায় আসার পর ট্রলার থেকে জেলেরা ফোন করে সাগর উত্তাল হয়ে ওঠার খবর জানিয়েছেন তাদের।
আবহাওয়া খারাপ খবর শুনে সব প্রস্ততি সম্পন্ন করেও সাগরে যেতে পারেনি অসংখ্য ট্রলার। বর্তমানে এসব ট্রলার শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের ঘাটসহ বিভিন্নস্থানে নোঙর করে রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেই রওনা হবে সাগরে।
শরণখোলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বললেন, সাগরের পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ। প্রবল বাতাস এবং ঢেউয়ে জাল ফেলা দূরের কথা, ট্রলার নিয়ন্ত্রণে রাখাই কঠিন। দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকায় জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগর থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হয়েছে। বর্তমানে শত শত ট্রলার পাথরঘাটা, মহিপুর, নিদ্রাসখিনা এবং সুন্দরবনের দুবলা, আলোরকোল, মেহেরআলী ও ভেদাখালী খালে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে। আবহাওয়া দ্রুত স্বাভাবিক না হলে বড় ধরনের লোকসান গুনতে হবে তাদের।
এ ব্যাপারে বরগুনা জেলা ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ও ফিশিং ট্রলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দুলাল মাস্টারের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তারাও সাগর উত্তাল এবং সমস্ত ফিশিং ট্রলার কূলে ফিরে আসার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস বললেন, কয়েক দিন আবহাওয়া পরিস্থিতি এভাবে থাকলে বাজারে ইলিশের সরবরাহ কমে যেতে পারে। অস্বাভাবিক বাড়তে পারে ইলিশের দামও। তাছাড়া আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে মৎসংশ্লিষ্টদের।





