জলাবদ্ধতার প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ

ছবি: আগামীর সময়
টানা তিন ঘণ্টার বৃষ্টিতে জামালপুর পৌর শহরের প্রায় ২০টি এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় দ্বিতীয় দিনের মতো জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
আজ সোমবার দুপুরে এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করা হয় পৌর শহরের দড়িপাড়া এলাকায় আন্তঃজেলা বাস টার্মিনালের সামনে।
বৃষ্টির কারণে কাচারিপাড়া, ফকিরবাড়ি, চামড়াগুদাম, দাপুনিয়া, দড়িপাড়া, নতুন বাইপাস, বানাকুড়া, সরদারপাড়া, শেখেরভিটা, মুকুন্দবাড়ি ও মিয়াপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এতে ক্ষতি হয়েছে ঘরবাড়ি, স্থানীয় সড়ক ও ফসলি জমির।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গতকাল রবিবার একই দাবিতে সড়ক অবরোধের পর পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেয় পৌর কর্তৃপক্ষ। তবে পরে বিসিক কর্তৃপক্ষ তা বন্ধ করে দিলে আবারও বন্ধ হয়ে যায় পানি নিষ্কাশন। রাতের টানা বৃষ্টিতে পরিস্থিতির আরও অবনতি হলে আবারও সড়কে নামেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী।
অবরোধের কারণে মহাসড়কে প্রায় এক ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এতে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয় সড়কের দুই পাশে। ভোগান্তিতে পড়েন ঢাকা থেকে আসা ও ঢাকাগামী যাত্রীরাও।
পরে শহর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শাহ আব্দুল্লাহ আল মাসুদ ও মানবাধিকার কর্মী সাংবাদিক জাহাঙ্গীর সেলিমের আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন স্থানীয়রা।
এ সময় জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভকে লাঞ্ছিত করার ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে বাস টার্মিনাল এলাকায়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে পুলিশ ও বিএনপি নেতা শাহ আব্দুল্লাহ আল মাসুদের হস্তক্ষেপে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে জলাবদ্ধতার শিকার হয়ে আসছেন দড়িপাড়া, দাপুনিয়াসহ আশপাশের এলাকার মানুষ। কিন্তু এখনো স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
আন্দোলনকারীরা জানিয়েছেন, আগের দিনের অবরোধের সময় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও দৃশ্যমান কোনো কাজ হয়নি। তাই বাধ্য হয়ে তারা আবারও সড়কে নেমেছেন।
স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও স্থায়ী পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত হোসেন শুভ জানিয়েছেন, স্থানীয়ভাবে বসে বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এ কারণে আইনি পদক্ষেপ নেবেন না তিনি।
জামালপুর সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেছেন, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। অবরোধ তুলে নেওয়ার পর মহাসড়কে যান চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। জলাবদ্ধতা নিরসনে পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন জামালপুরের সহকারী মহাব্যবস্থাপক সম্রাট আকবর জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠক চলছে। বৈঠক শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।
পৌর প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক মৌসুমী খানম বলেছেন, সংশ্লিষ্ট স্থানে পৌরসভার কোনো জায়গা নেই। বিসিক তাদের জায়গা উঁচু করায় পানি নিষ্কাশনে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিসিক কর্তৃপক্ষ জায়গা বুঝিয়ে দিলে দ্রুত জলাবদ্ধতা নিরসনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।






