দিনাজপুর
কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ, বাবা-মামাকে পিটিয়ে আহত

ছবি: আগামীর সময়
দিনাজপুরের হাকিমপুরে এক কিশোরীকে উত্ত্যক্তের প্রতিবাদ করায় তার বাবা ও মামাকে পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ উঠেছে। এ সময় কিশোরীর মা, নানি ও মামিকেও একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।
গতকাল রবিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার নয়ানগর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কিশোরীর বাবা নুরুজ্জামান হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। গুরুতর আহত মামা মনোয়ার হোসেনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আজ সোমবার কিশোরীর মা ববিতা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের বিরুদ্ধে হাকিমপুর থানায় মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি আহসানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, নুরুজ্জামান পরিবারসহ গাজীপুরে বসবাস করেন এবং একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন। রবিবার শ্বশুরবাড়ি নয়ানগর গ্রামে বেড়াতে গেলে সন্ধ্যায় তার সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া মেয়ে নাহিদা আক্তার নিশি, বোন ও ভগ্নিপতির সঙ্গে পাশের ডাঙ্গাপাড়া বাজারে ফুচকা খেতে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, সেখানে স্থানীয় সাগর হোসেনের ছেলে আহসান তাকে উত্ত্যক্ত করে। এ নিয়ে ভগ্নিপতির সঙ্গে আহসানের কথা কাটাকাটি হয়। পরে বাড়ি ফেরার পথে আহসান কিশোরীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ ওঠে।
পরিবারের সদস্যদের কাছে বিষয়টি জানানো হলে কিশোরীর বাবা-মা ও মামা অভিযুক্তের বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবকদের বিষয়টি জানালেন এবং ছেলেকে শাসন করার অনুরোধ করেন। এ সময় আহসান ও তার সহযোগীরা লাঠিসোঁটা নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়। এতে নুরুজ্জামান ও মনোয়ার হোসেন গুরুতর আহত হন।
খবর পেয়ে কিশোরীর মা, নানি ও মামি ঘটনাস্থলে গেলে তাদের একটি কক্ষে আটকে রেখে মারধর করা হয়। পরে আহত নুরুজ্জামান জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়।
কিশোরীর মা ববিতা বেগম বলেছেন, ‘আমরা কোনো প্রতিশোধ নিতে যাইনি। শুধু ছেলের অভিভাবকদের বিষয়টি জানাতে গিয়েছিলাম। কিন্তু তারা আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমার স্বামী ও ভাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।’
তবে অভিযুক্ত আহসানের বাবা সাগর হোসেনের ভাষ্য, মেয়ের পরিবার আমাদের বাড়িতে এসে আমার স্ত্রীকে মারধর করেছে। পরে ছেলে ও আশপাশের লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের মারধর করেছে।
হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আব্দুল ওয়াদুদ জানালেন, আহত পাঁচজনকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে মনোয়ার হোসেনের মাথায় গুরুতর আঘাত থাকায় তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। নুরুজ্জামানের মাথায় পাঁচটি সেলাই দেওয়া হয়েছে। আহত তিন নারীর শরীরেও মারধরের চিহ্ন রয়েছে।
হাকিমপুর থানার ওসি জাকির হোসেন বলেছেন, ‘৯৯৯-এ কল পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। এ ঘটনায় মামলার পর প্রধান অভিযুক্ত আহসানকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’




