ভাগ্য ফেরাতে সৌদি, আগুনে নিভল নাটোরের তিন যুবকের প্রাণ

সৌদি আরবের রিয়াদে আগুনে পুড়ে নিহত তিন বাংলাদেশি। সংগৃহীত ছবি
সংসারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমান নাটোরের নলডাঙ্গার শামীম হোসেন, সাব্বির হোসেন শুভ ও রবিউল আউয়াল হৃদয়। তারা কাজ করতেন রিয়াদের একটি সোফা তৈরির কারখানায়। গতকাল রবিবার ওই কারখানায় আগুনে পুড়ে মারা যান ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। তাদের মধ্যে আছেন নলডাঙ্গার খাজুরা ইউনিয়নের ওই তিনজন।
৮ মাস আগে সৌদি আরবে পাড়ি জমান উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামের মো. জাকির হোসেনের ছেলে শামীম। বিদেশে যাওয়ার খরচ জোগাতে বন্ধক রাখেন জমি। গর্ভবতী স্ত্রীকে রেখে প্রবাসে যান তিনি। তাদের মেয়ের বয়স এখন ১ মাস। সৌদি আরব থেকে ভিডিও কলে মেয়েকে দেখতেন। প্রহর গুনতেন দেশে ফিরে কোলে নিয়ে সন্তানকে আদর করার। কিন্ত সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না শামীমের।
নিহত শামীমের মা শাহীনুর বেগম কান্নাভেজা কন্ঠে বললেন, ‘সরকারের কাছে আবেদন, আমার সন্তানের লাশ ফিরিয়ে দিন। অনেক আশা নিয়ে আমার সন্তান বিদেশে গিয়েছিল। দেশে এসে সে মেয়ের মুখ দেখবে, আদর করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণ হলো না। আমার নাতনি তার বাবার জীবিত মুখটা দেখতে পেল না। সরকার যেন আমার নাতনির ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আর্থিক সহায়তা করে।’
একই উপজেলার শ্রীপুরপাড়া গ্রামের মো. রাব্বানীর ছেলে সাব্বির। প্রায় ৪ বছর আগে ৬ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে যান তিনি। পরিবারে আছেন বাবা-মা, স্ত্রী ও ছোট বোন।। ঋণের টাকা কিছুটা পরিশোধ করতে পেরেছিলেন। ছোট বোনের বিয়ের কথা চলছিল। বোনের বিয়ে দিতে দেশে ফেরার কথা ছিল সাব্বিরের।
মহিষডাঙ্গা এলাকার রবিউল। ৩ বছর আগে প্রবাসী বড় ভাইয়ের কাছে সৌদি আরবে যান তিনি। রবিউলের ভিসা ও পাসপোর্ট থাকলেও ছিল না আকামা (দেশটিতে কাজের অনুমতিপত্র)। ফলে অবৈধভাবে সৌদি আরবে কাজ করতেন তিনি। কিছুদিন পর দেশে ফেরার কথা ছিল তার।
নলডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল ইমরান খানের ভাষ্য, ঘটনাটি জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। নিহতদের বাড়িতে গিয়ে তাদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করেছি। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটুকু সহয়োগিতা করা যায়, তা করা হবে।





