উপকূলীয় এলাকায় সুপেয় পানি নিশ্চিত করা হবে: প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম

লবণাক্ততা অধ্যুষিত উপকূলীয় এলাকার প্রতিটি মানুষের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পানির সংকট নিরসনে ঘরে ঘরে পানির ট্যাংকি পৌঁছে দেওয়া হবে, যাতে সবাই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে সুপেয় পানির চাহিদা পূরণ করতে পারে। ট্যাংকি বিতরণের ক্ষেত্রে কোনো দল-মত বিবেচনা করা হবে না, বরং সবার ন্যায্যতা ও প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট নিরসনে সরকারি পুকুরগুলো পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
শুক্রবার (০৩ এপ্রিল ) সকালে বাগেরহাটের রামপালের পেড়িখালী মডেল উচ্চ বিদ্যালয় চত্বরে আয়োজিত বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম বললেন, দেশে ১০টি ক্রীড়া পল্লী গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাগেরহাটের মোংলা-রামপাল এলাকায় একটি ক্রীড়া পল্লী নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে স্থানীয় ছেলে-মেয়েরা জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তরুণরা খেলাধুলায় সম্পৃক্ত থাকলে মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধ কমে আসবে।
“অন্ধত্ব প্রতিরোধ করুন” স্লোগানকে সামনে রেখে ২০০৯ সাল থেকে মোংলা-রামপাল এলাকায় বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন লায়ন ডক্টর শেখ ফরিদুল ইসলাম। তার ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায় গত ১৭ বছরে লক্ষাধিক মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়েছে এবং ১০ হাজারের বেশি মানুষের চোখের অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।
শুক্রবার দিনব্যাপী আয়োজিত এ চক্ষু শিবিরে মোংলা ও রামপাল থেকে প্রায় ৫ হাজার মানুষ বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। এ সময় রোগীদের প্রয়োজন অনুযায়ী চশমা ও ওষুধ বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি চোখের ছানি ও নেত্রনালী অপারেশনের জন্য রোগী বাছাই করা হয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের ঢাকায় নিয়ে অপারেশন করানো হবে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
চক্ষু চিকিৎসা কার্যক্রমের সমন্বয়কারী খাঁন আলী আজম জানান, প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে মানবতার সেবায় নিয়োজিত। তিনি প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগ থেকেই অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা সেবা দিয়ে আসছেন এবং এখনও তা অব্যাহত রেখেছেন। সমাজের অবহেলিত ও দরিদ্র মানুষ যাতে অন্ধত্বের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পায় এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে এটাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

