অমাবস্যা-পূর্ণিমার জোয়ার
পানিবন্দি মেঘনাপাড়ের মানুষ

পানিবন্দি উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষ
জোয়ার-ভাটার বৃত্তে আবদ্ধ লক্ষ্মীপুরের উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন। মেঘনা নদীই তাদের জীবন ও জীবিকার অবিচ্ছেদ্য অংশ। পূর্ণিমা ও অমাবস্যার সময়ে নদীতে বাড়ে পানির উচ্চতা। আছড়ে পড়ে ঢেউ। ডুবে যায় উঠোন, রাস্তাঘাট ও ফসলের মাঠ; কখনো পানি ঢুকে পড়ে বসতঘরেও। দিনের পর দিন জোয়ারের পানিতে বন্দি থেকে রান্না, চলাচল, গবাদি পশু পালন— সবকিছুতেই ছন্দপতন ঘটে। একসময় জোয়ারের পানি নেমে যায়, কিন্তু রেখে যায় ভাঙা রাস্তা, ক্ষতিগ্রস্ত ঘর আর অনিশ্চিত জীবিকার দীর্ঘশ্বাস।
৬০ বছরের সালেহা বেগমের ঘরেই সেই দুর্ভোগের চিত্র স্পষ্ট। খাটের ওপর বসে আছেন তিনি। ঘর থেকে বের হওয়ার উপায় নেই। চারপাশে হাঁটুপানি। মেঘনার তীরে বসবাসের কারণে বর্ষা মৌসুমে অমাবস্যা ও পূর্ণিমায় দিনের বড় একটি সময় তাকে এভাবেই থাকতে হয় পানিবন্দি।
সালেহা বেগমের আক্ষেপ, ‘পানির কারণে বের হতে পারি না। বসে থাকতে হয় খাটের ওপর। দুঃখ-কষ্টের মধ্যেই বাস করতে হয় আমাদের।’
সালেহা বেগমের মতো এমন দুর্ভোগে থাকা মানুষের সংখ্যাও কম নয়। কমলনগর উপজেলার চর মার্টিন ও চর কালকিনি এলাকায় দেখা গেছে একই চিত্র। নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে আছে জোয়ারের পানিতে। কোথাও রাস্তায় পানি, কোথাও বাড়ির উঠোনে। ফসলি জমি ও বাগান ডুবে আছে পানিতে। ময়লাযুক্ত পানির মধ্যেই শিশুরা চলাফেরা করছে। আর বৃদ্ধ নারী-পুরুষ অনেকটা ঘরবন্দি জীবন কাটাচ্ছেন।
চর কালকিনি এলাকার কাঞ্চন বেগমের ভাষ্য, ‘জোয়ারের পানিতে বাড়ির চারপাশ ডুবে আছে। কোথাও যেতে পারি না। বিশেষ করে রাতের বেলায় পানি উঠলে পড়তে হয় চরম দুর্ভোগে।’
এ পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য নদীর তীর রক্ষা বাঁধ ও খালের মুখে স্লুইসগেট নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা বলছেন, রামগতি ও কমলনগরে ৩১ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণের কাজ চলছে। তবে কাজের ধীরগতির কারণে এখনো জোয়ারের পানিতে উপকূলীয় এলাকা তলিয়ে যাচ্ছে।
তবে লক্ষ্মীপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ জামান খানের বক্তব্য, মেঘনা নদীর তীর রক্ষা বাঁধ নির্মাণকাজ চলমান। এতে রোধ হয়েছে নদীভাঙন। বাঁধ দৃশ্যমান হলে উপকূলে ঢুকতে পারবে না জোয়ারের পানি। খালের মুখে নির্মাণ করা হবে স্লুইসগেটও, যা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে জোয়ার-ভাটার পানি।’






