‘প্রতিনিয়ত ধর্ষণ ও খুনের তালিকায় যুক্ত হচ্ছে নতুন নাম’

ছবি: আগামীর সময়
শিশু রামিশা হত্যাকাণ্ডের দ্রুত বিচার এবং দেশব্যাপী ক্রমবর্ধমান ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে রংপুর। বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই নারী ও শিশুদের ওপর এ ধরনের নৃশংসতা দিন দিন বাড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় আন্দোলনকারীরা।
এ ঘটনার প্রতিকারে আজ রবিবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন পৃথক পৃথক কর্মসূচি পালন করেছে। কর্মসূচিগুলোতে রংপুরের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাস্তায় নেমে এসে অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
প্রথম দফায় সকালে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম ও ডেমোক্রেসি ওয়াচসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার উদ্যোগে রংপুর প্রেস ক্লাব চত্বরে একটি বিশাল মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সমাবেশে বক্তব্য রাখার সময় মানবাধিকার সংগঠক সামসি আরা বিলকিস, সিড বাংলাদেশের নির্বাহী কর্মকর্তা সারথী রানী সাহা এবং সুজনের জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু নারী ও শিশু সুরক্ষায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
পরে বিকেলে রংপুর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বর থেকে মুখে কালো কাপড় বেঁধে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ শেষে আবার প্রেস ক্লাবের সামনে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে নিজেদের ক্ষোভ ও দাবি তুলে ধরেন মহানগর নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট পলাশ কান্তি নাগ এবং হিজড়া জনগোষ্ঠীর নেত্রী আনোয়ারা ইসলাম রানীসহ অন্যরা।
একই সময়ে প্রেস ক্লাবের সামনে সামাজিক সংগঠন ‘বাংলার চোখ’-এর উদ্যোগে রামিশা হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে আরেকটি মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান তানবীর হোসেন আশরাফির সভাপতিত্বে এতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
দিনভর অনুষ্ঠিত এই বিক্ষোভ কর্মসূচিগুলোতে বক্তারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্তব্য করেন, শিশু রামিশাই শেষ নয়, বরং প্রতিনিয়ত ধর্ষণ ও খুনের তালিকায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার সুযোগ নিয়ে অপরাধীরা বারবার পার পেয়ে যাচ্ছে এবং ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে যাচ্ছে।
বিদ্যমান আইন সংশোধন করে অতি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সব ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন করার জন্য তারা সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান।






