শ্রেণিকক্ষে ধান, পিয়নের হাতে পাঠদান

ছবি: আগামীর সময়
স্কুলে শিক্ষার্থী ৮৩ জন। শিক্ষক মাত্র তিনজন। এরমধ্যে দুজনই ছুটিতে। নেই কোনো প্রধান শিক্ষক। এখন সেখানে ক্লাস নেন একজন শিক্ষক ও স্কুলের পিয়ন।
এ ঘটনা কুড়িগ্রামের রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তৈয়ব খান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের। পাঠদানের পাশাপাশি স্কুলের একটি কক্ষকে ধান রাখার গুদাম হিসেবে ব্যবহারও করছেন পিয়ন সন্তোষ রায়।
এমন অভিযোগ গত সপ্তাহের। সরেজমিনে দেখা গেছে, স্কুলের প্রথম শ্রেণির কক্ষটি চার দিন ধরে ধানে ভর্তি। অবশ্য খবর জানাজানি হওয়ার পর গত বুধবার সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয ধান। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কথা- ধান রেখেছিলেন পিয়ন।
তবে, সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন রায়ের দাবি, বিনয় কৃষ্ণ নামের এক ব্যক্তি রেখেছিলেন সেসব। কেন? সে প্রশ্নের জবাব অবশ্য এড়িয়ে গেছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেল, পিয়ন সন্তোষ রায়ের বাবাই বিনয় কৃষ্ণ।
এই ইস্যুতে কথা না বাড়ালেও স্কুলের শিক্ষক সংকট নিয়ে আলাপ করেছেন সহকারী শিক্ষক মনোরঞ্জন। জানালেন, প্রায় এক বছর ধরে প্রধান শিক্ষক নেই। ৮৩ শিক্ষার্থীর জন্য তিনিসহ আছেন কেবল তিনজন শিক্ষক। আরও তিনটি শিক্ষক পদ শ্যূন্য অনেকদিন।
এখন তিনজনের মধ্যে সহকারী শিক্ষিকা রওশোনারা খাতুন মাতৃত্বকালীন ছুটিতে। ব্যক্তিগত ছুটিতে আছেন আরেক শিক্ষক শামীম মিয়াও।
এমন পরিস্থিতিতে পিয়ন সন্তোষ দিয়েও ক্লাস করাতে হচ্ছে বলে জানালেন মনোরঞ্জন রায়। আর সন্তোষের ভাষ্য, মাঝে মাঝে ক্লাস নেন তিনি। শিক্ষার্থীদের দাবি, নিয়মিতই ক্লাসে পড়াচ্ছেন সন্তোষ।
এই সংকটের কারণ স্কুলে আসার রাস্তা- মনে করেন স্থানীয় ইউপি সদস্য মনিন্দ্র রঞ্জন রায়। ‘বিদ্যালয়ে যাওয়ার উপযুক্ত রাস্তা না থাকায় শিক্ষার্থী কমে গেছে। বর্ষাকালে রাস্তা বেহাল হয় বলে শিক্ষকরাও নিয়মিত আসতে অনাগ্রহী।’
এ বিষয়ে জানতে ফোন করা হয় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. শরীফ আহম্মদকে। রবিবার নিজ কর্মস্থলে ফিরে এ বিষয়ে বক্তব্য দেবেন বলে জানালেন তিনি।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত ভেঙে পড়েছে বলে মনে করছেন অভিভাবকরা। দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়বে— আশঙ্কা তাদের।




