ছাত্রলীগ করায় ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ করলেন বাবা

সংগৃহীত ছবি
নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের রাজনীতি করায় অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে ছেলেকে ‘ত্যাজ্য’ ঘোষণা করেছেন বাবা মীর মো. আব্দুল মালেক নামে এক ব্যক্তি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ত্যাজ্য ঘোষণার অ্যাফিডেভিটের ছবি ভাইরাল হয়।
এর আগে ৬ মার্চ নেত্রকোনার নোটারি পাবলিকের কার্যালয়ে ছেলেকে ত্যাজ্য করে একটি অ্যাফিডেভিট করেন আব্দুল মালেক। অ্যাফিডেভিটের নাম্বার ৩১০।
আব্দুল মালেক নেত্রকোনা সদর উপজেলার সাতপাই এলাকার বাসিন্দা। তার ছেলে মীর মো. সাজেদুর রহমান ছোটন কৈশোর থেকে পারিবারিক রাজনীতি থেকে বিচ্যুত হয়ে ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। সর্বশেষ তিনি জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
জানা যায়, ছোটনের পরিবার ও আত্মীয়-স্বজনের অধিকাংশ বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং বিভিন্ন সময়ে তার দাবি-দাওয়া আদায়ে অসদাচারণের কারণে বেশকিছুদিন ধরে পরিবারের সঙ্গে তার তিক্ততার সম্পর্ক চলে আসছিল। এর জেরে ছেলেকে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছেন বলে অ্যাফিডেভিটে উল্লেখ করেছেন আব্দুল মালেক।
নেত্রকোনা জেলা জজ আদালতের আইনজীবী মো. আজিজুল হকের মাধ্যমে এ অ্যাফিডেভিট সম্পন্ন করেন আব্দুল মালেক।
অ্যাফিডেভিটে তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর সরকার ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও ছেলে ছোটন তার নিষেধ উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকেছেন। এ ঘটনা জানার পর তিনি তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছেন। ভবিষ্যতে ছেলে কোনো বেআইনি কাজে জড়িত থাকলে তার দায়-দায়িত্ব তিনি নেবেন না।
এ বিষয়ে আব্দুল মালেক বলেছেন, ‘ছেলেকে শত চেষ্টা করেও তার রাজনীতি থেকে ফেরাতে পারিনি। তাই তার মঙ্গলের জন্যই ত্যাজ্যপুত্র করেছি।’
ত্যাজ্য করার বিষয়ে জানতে সাজেদুর রহমান ছোটনের মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি জানান, ‘পরিবারের সবাই বিএনপি করায় ৩ বছর ধরে তিনি পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। তার বড় ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা। ছাত্রলীগ করায় গত আগস্ট মাসেও ফেসবুকে তার বাবা তাকে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিলেন। এখন ত্যাজ্যপুত্র করেছেন। রাজনীতির জন্য তার পরিবার রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করলেও তিনি তার রাজনৈতিক আদর্শ থেকে বিচ্যুত হবেন না বলেও জানান।

