দিনাজপুরে আধাপাকা লিচুর ছড়াছড়ি

লিচুর রাজ্যখ্যাত জেলা দিনাজপুর। দেশের বিভিন্ন জেলায় চাষাবাদ হলেও এখানকার লিচুর জন্য অপেক্ষায় থাকেন ভোক্তারা। সুস্বাদু হওয়ায় জেলার রসালো এ ফলটির চাহিদাও থাকে বেশি। সে চাহিদা আর সুনাম পুঁজি করে সময়ের আগেই এ বছর অনেকে বাজারে তুলেছেন মাদ্রাজি আর বেদানা জাতের লিচু।
এ ফলটি বাজারে আসার কথা ছিল ঈদের পর। বেশি দাম পাওয়ার আশায় অনেক চাষি অপরিপক্ব মাদ্রাজি ও বেদানা লিচু তুলছেন বাজারে। এগুলো চড়া দামে কিনছেন ক্রেতারা। এতে চাষিরা কিছুটা লাভবান হলেও জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত বেদানা লিচুর সুনাম নষ্টের আশঙ্কা করছেন বেশিরভাগ বাগানমালিক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এখন বাজারে নেমেছে মাদ্রাজি জাতের লিচু। আরও চার-পাঁচ দিন পর এ লিচু বাজারে আসার কথা। আর ১২-১৫ দিন পর বেদানা এবং তারও কয়েক দিন পর বোম্বাই জাতের লিচু নামার কথা। কিন্তু মাদ্রাজি জাতের সঙ্গে অপরিপক্ব বেদানা ও বোম্বাই জাতও বাজারে এসে গেছে। এই আধাপাকা লিচু রাজধানীসহ যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলায়। এতে চড়া দামে ভোক্তারা দিনাজপুরের লিচু কিনলেও আসল স্বাদ থেকে হচ্ছেন বঞ্চিত।
দিনাজপুর শহরের কালীতলার নিউ মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, বাজারে আধাপাকা মাদ্রাজি জাতের লিচুর ছড়াছড়ি। ঝড়বৃষ্টির আশঙ্কা ও অতিরিক্ত লাভের আশায় চাষিরা পরিপক্ব হওয়ার আগেই আনছেন বাজারে। সেখানে মাদ্রাজি জাতের এক হাজার লিচু আকারভেদে ২৫০০-২৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর বেদানার হাজার বিক্রি হচ্ছে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকায়।
কালীতলা ফল মার্কেটে লিচু বিক্রি করতে আসা কৃষক আকবর বলছিলেন, ‘গাছে ফলন ভালোই এসেছে। কিন্তু লিচুতে রঙ আসার পরপরই কখনো প্রচণ্ড তাপপ্রবাহ, আবার কখনো লাগাতার বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাস। এতে লিচু ঝরে পড়ছে। এ কারণে ক্ষতি এড়াতে পরিপক্বের সঙ্গে অপরিপক্ব লিচুও বিক্রি করে দিচ্ছি।’
মাদ্রাজি এ জাতটি নামার সময় হলেও ৮-১০ দিন আগেই এসে গেছে অপরিপক্ব বেদানা লিচু। ঈদের পর এই ফলের হাট লিচুতে ভরপুর হয়ে উঠবে। তখন দিনে এই হাটে কোটি টাকার লিচুর কেনাবেচা হবে— জানালেন ওই বাজারের ইজারাদার মো. শাহীন।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দিনাজপুরের ১৩ উপজেলা মিলে লিচুর বাগান রয়েছে ১০ হাজার ৬৬টি। এ বছর ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে রসালো এ ফলটি। এসব বাগান থেকে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫০০ টন। সরকারি হিসাবে যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে হাজার কোটি টাকা।
দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) মোস্তাফিজুর রহমান আগামীর সময়কে জানিয়েছেন, অতিরিক্ত লাভের আশায় কিছু চাষি সময়ের আগেই বেদানা জাতের লিচু বাজারে তুলছেন। এতে জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃত ফলের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। কারণ ভোক্তারা চড়া দামে কিনলেও বেদানার আসল স্বাদ পাবেন না।
‘বেদানা লিচু বাজারে আসতে আরও ১২-১৫ দিন সময়ের প্রয়োজন’— যোগ করলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এ কর্মকর্তা।






