কাপাসিয়ায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত চাহিদার চেয়েও বেশি পশু
- সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে

ছবি: আগামীর সময়
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে গাজীপুরের কাপাসিয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন খামারি ও গৃহস্থরা। দেশীয় ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়া মোটাতাজা করা হয়েছে উপজেলার খামারগুলোতে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর উপজেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদা রয়েছে ২৭ হাজার ৫৬৮ টি। এর বিপরীতে প্রস্তুত করা হয়েছে ২৭ হাজার ৬৪৬ টি পশু। ফলে চাহিদার তুলনায় উদ্বৃত্ত পশুর সংখ্যা ৭৮ টি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় জানিয়েছে, কাপাসিয়ায় বর্তমানে মোট খামারের সংখ্যা ২ হাজার ৯৬৬টি। এসব খামারে প্রস্তুত করা হয়েছে ১০ হাজার ৯৮ টি ষাঁড়, ২ হাজার ২৩১ টি বলদ, ৫ হাজার ৭৭ টি গাভি, ৫৮৮টি মহিষ, ৮ হাজার ৪৯০ টি ছাগল এবং ১ হাজার ১৬২ টি ভেড়া। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব পশুর সম্ভাব্য বাজারমূল্য শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। অধিক লাভের আশায় দিন-রাত পরিশ্রম করছেন খামারিরা। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে পশু মোটাতাজা করছেন তারা। এজন্য গবাদিপশুকে খাওয়ানো হচ্ছে খড়, সবুজ ঘাস, ভুসি, খৈল ও ভিটামিন সমৃদ্ধ খাদ্য।
স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি প্রতি বছরের মতো এবারও কাপাসিয়ার পশু দেশের বিভিন্ন জেলার পশুর হাটে সরবরাহ করা হবে। এরইমধ্যে খামারগুলোতে ভিড় জমাতে শুরু করেছেন বিভিন্ন অঞ্চলের পাইকারি ব্যবসায়ীরা।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য মতে, এ বছর দেশীয় জাতের পাশাপাশি শাহিওয়াল, ফ্রিজিয়ান, নেপালি ঘির, রাজস্থানি ও অস্ট্রেলিয়ান জাতের গবাদিপশুও পালন করা হচ্ছে। তবে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দুশ্চিন্তায় রয়েছেন অনেক খামারি। বর্তমানে সরিষার খৈল প্রতি কেজি ৪৮ থেকে ৫০ টাকা, গমের ভুসি ৫০ থেকে ৫৫ টাকা, ডাবরি ভুসি ৬০ থেকে ৬৫ টাকা এবং কাঁচা ঘাসের আঁটি বিক্রি হচ্ছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। ফলে গবাদিপশু পালন আগের তুলনায় অনেক বেশি ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।
উপজেলার কেন্দ্রুয়াব গ্রামের খামারি ইছাহাক হোসেন বলেছেন, ‘এ বছর আমি দুটি গরু বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেছি। কিন্তু খাবার ও ওষুধের দাম অনেক বেড়ে গেছে। তারপরও আশা করছি ঈদের বাজারে ভালো দাম পাব।’
খামারি আলম হোসেন জানান, প্রায় ছয় মাস আগে গরু কিনেছেন। গরুকে মোটাতাজা করতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নিয়মিত পরিচর্যা করছেন। গো-খাদ্যের দাম বৃদ্ধি পেলেও ঈদের হাটে ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যাপারে আশাবাদী এই খামারি।
আরেক খামারি মোবারক হোসেন বললেন, ‘আমার খামারের গরুগুলো দেশীয় পদ্ধতিতে মোটাতাজা করা হয়েছে। পশুর স্বাস্থ্য ও হজমশক্তি ভালো রাখতে পুষ্টিকর খাদ্যের ওপর গুরুত্ব দিয়েছি।’
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এ কে এম আতিকুর রহমান বলেছেন, ‘খামারিদের অনেকেই আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত পদ্ধতিতে পশু পালন করছেন। কোনো ধরনের ক্ষতিকর রাসায়নিক বা স্টেরয়েড ব্যবহার করা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত খামার পরিদর্শন করছি আমরা।’
তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে এ খাত দেশের অর্থনীতিতে আরও বড় অবদান রাখতে সক্ষম হবে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে কোরবানির পশুর চাহিদা পূরণে স্থানীয় খামারিদের অবদান ক্রমেই বাড়ছে। সরকারিভাবেও জানানো হয়েছে, এবার দেশে কোরবানিযোগ্য পশুর কোনো ঘাটতি নেই; বরং উদ্বৃত্ত পশু রয়েছে।






