দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনতাই, গ্রেপ্তার ৯

দর্শনা থানা
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশ হেফাজত থেকে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা, পুলিশ সদস্যকে আহত করা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় প্রধান আসামিসহ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গত বুধ ও বৃহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে আসামিদের ফেলে যাওয়া ৯টি বাঁশের লাঠি ও দুটি হাসুয়া উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দর্শনা থানার চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মো. আবু সিদ্দীক (৭০), লক্ষণ (৩৮), মো. ফিরোজ হোসেন (১৯), মো. ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), মোছা. নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) ও ফুলন হালদার (৩২)।
পুলিশ জানায়, গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টার দিকে দর্শনা থানার এসআই মোল্ল্যা আরিফুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল চন্ডিপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে অভিযান চালায়। সেখানে কয়েকজন ব্যক্তি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। এ সময় পুলিশ মো. আবু সিদ্দীককে আটক করে।
আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার পথে স্থানীয় একদল ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা সরকারি কাজে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং দুই পুলিশ সদস্যকে আহত করে। পরে তারা পুলিশের কাছ থেকে আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
ঘটনার পর চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও দর্শনা থানা পুলিশ চন্ডিপুর গ্রামে যৌথ অভিযান চালায়। অভিযানে ঘটনায় জড়িত আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে অভিযান অব্যাহত রেখে ১ অক্টোবর চুয়াডাঙ্গা সদর বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়া প্রধান আসামি মো. আবু সিদ্দীককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
দর্শনা থানা পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতে পাঠানো হয়েছে। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং অপরাধ দমনে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।



