আদালতে স্বীকারোক্তি
গজারিয়ায় তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার রহস্য উন্মোচন, গ্রেপ্তার ৪

সংগৃহীত ছবি
মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় এক তরুণীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা এবং লাশ গুমের চেষ্টার ঘটনার রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধ এবং অনৈতিক সম্পর্ক ফাঁস হয়ে সামাজিক মর্যাদাহানির আশঙ্কায় চার আসামি পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে বলে তদন্তে বেরিয়ে এসেছে।
গত ৩০ মে গজারিয়া থানার বড় ভাটেরচর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবু কালাম (৪৮), জামাল হোসেন (৪৪), রাসেল মিয়া (৪৪) এবং আল আমিন প্রধানকে (৫০) গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই। এদের মধ্যে আবু কালাম ছাড়া বাকি তিনজনই বড় ভাটেরচর এলাকার বাসিন্দা।
আজ রবিবার আসামিদের আদালতে হাজির করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। সন্ধ্যায় এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে পিবিআই মুন্সীগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসমা আরা জাহান জানান, অভিযুক্ত জামালের সঙ্গে তরুণীর শারীরিক সম্পর্ক ছিল। তাদের এই অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি জামালের এক আত্মীয় দেখে ফেলেন।
বিষয়টি এলাকায় ফাঁস হয়ে সামাজিক সম্মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা এবং ভিকটিমকে পাওনা টাকা না দেওয়ার উদ্দেশ্যে আসামিরা তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। হত্যাকাণ্ড ঘটানোর ১৫ দিন আগেই আসামিরা গজারিয়ায় হামদর্দ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে।
সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৬ মে সন্ধ্যায় কৌশলে নিহতকে বড় ভাটেরচর নদীর তীরে ডেকে আনা হয়। পরে নৌকায় করে নদীর ওপারে একটি ভুট্টা ক্ষেতের মাঝখানে নিয়ে চারজন তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। একপর্যায়ে তার পরনের প্যান্ট দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করা হয়। পরে লাশ গুমের উদ্দেশ্যে নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
এই নৃশংস ঘটনায় হালিমার বড় বোন হোসনেয়ারা বৃষ্টি গজারিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআই মুন্সীগঞ্জের এসআই রনি দেবনাথ জানান, আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলার তদন্ত কার্যক্রম চলমান।






