গ্রামীণ হাটে নারকেলের খোঁজে

দুর্গাপূজা উপলক্ষে শুক্রবার রংপুর সদরের হরকলি হাটে নারকেল কিনতে ভিড়। ছবি: আগামীর সময়
শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসব। পূজার অন্যতম অনুষঙ্গ নারকেল। নারকেলের নাড়ু তৈরি থেকে শুরু করে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে এর ব্যবহার অপরিহার্য। তবে এবার উৎসবের আনন্দের মধ্যে দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নারকেলের অস্বাভাবিক দাম। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি ও সরবরাহ সংকটে রংপুরে বেড়েছে নারকেলের দাম।
শহরের বাজারে চাহিদামতো নারকেল না পেয়ে গ্রামীণ হাটে ছুটছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা। বাড়তি খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ ক্রেতা ও পূজা উদযাপন কমিটির সদস্যরা।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, এক সপ্তাহ আগে যে নারকেলের জোড়া ১৬০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়। গত বছর একই সময়ে জোড়াপ্রতি দাম ছিল ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। অর্থাৎ, গত বছরের তুলনায় এবার জোড়াপ্রতি দাম বেড়েছে ৬০ থেকে ১০০ টাকা।
রংপুর বিভাগের আট জেলায় এ বছর ৫ হাজার ৩৫৮টি মণ্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানালেন, প্রতিটি মণ্ডপে গড়ে ৮০ থেকে ১০০টি বা তারও বেশি নারকেল প্রয়োজন হয়। পাশাপাশি পূজা উপলক্ষে অনেক পরিবার নাড়ু তৈরির জন্য ১০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত নারকেল কেনে। ফলে উৎসব ঘিরে চাহিদা বাড়লেও সেই অনুপাতে সরবরাহ না থাকায় দাম বেড়েছে। কম দামে নারকেল পাওয়ার আশায় ক্রেতারা এখন গ্রামীণ হাটমুখী হচ্ছেন।
সরেজমিনে রংপুরের হরকলি হাট, বুড়িরহাটসহ কয়েকটি গ্রামীণ হাট ঘুরে দেখা গেছে, সেখানে নারকেলের সরবরাহ থাকলেও দাম চড়া। মাঝারি আকারের প্রতিটি নারকেল বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৫০ টাকায়। শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা ক্রেতারা প্রয়োজন অনুযায়ী নারকেল কিনছেন।
হরকলি হাটে দুটি নারকেল কিনেছেন রংপুর নগরীর বাসিন্দা সুকুমার রায়। তিনি বললেন, ‘গত বছরের তুলনায় এবার নারকেলের দাম অনেক বেশি। দুর্গাপূজায় নারকেলের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে। তারপরও কিনতে হচ্ছে।’
নীলফামারীর সৈয়দপুর থেকে আসা সুব্রত কুমার সিংহ বলেন, ‘নারকেল বাইরে থেকে আনতে হয়। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন খরচও বেড়েছে। ফলে নারকেল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নারকেল ছাড়া নাড়ু তৈরি করা যায় না, তাই বাধ্য হয়েই কিনতে হচ্ছে।’
পূজার সময় নারকেলের এমন মূল্যবৃদ্ধিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী ক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রংপুরে স্থানীয়ভাবে নারকেলের উৎপাদন প্রায় নেই বললেই চলে। দক্ষিণাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে নারকেল আনতে হয়। এতে পরিবহন খরচ বাড়ছে। পাশাপাশি পাইকারি বাজারে বেশি দামে কিনতে হওয়ায় খুচরা পর্যায়ে দাম কমানোর সুযোগ থাকছে না।
হরকলি হাটে লক্ষ্মীপুর থেকে নারকেল নিয়ে আসা ব্যবসায়ী অমল চন্দ্র জানিয়েছেন, সেখানে প্রতিটি নারকেল ৭৫ টাকা দরে কিনতে হয়েছে। প্রতি ট্রাকে ৬ হাজার থেকে ৮ হাজার নারকেল আসে। আগে ট্রাকভাড়া ছিল ২২ হাজার টাকা, এখন দিতে হচ্ছে ২৮ হাজার থেকে ৩২ হাজার টাকা। এ ছাড়া অনেক নারকেলের ভেতরে নষ্ট অংশ থাকে। সব খরচ হিসাব করে হাটে পৌঁছানোর পর প্রতিটি নারকেল ১২৫ টাকার নিচে বিক্রি করা সম্ভব হয় না। বড় আকারের নারকেলের দাম পড়ে ১৫০ টাকা পর্যন্ত।
আরেক ব্যবসায়ী শহিদুর রহমান জানিয়েছেন, ভোলা থেকে প্রতি ট্রাক নারকেল পরিবহনে ৪০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হচ্ছে। এতে ট্রাকপ্রতি অন্তত ১০ হাজার টাকা খরচ বেড়েছে। ভোলাতেই প্রতিটি নারকেল ৮০ থেকে ৮৫ টাকা দরে কিনতে হচ্ছে।
রংপুর জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রামজীবন কুণ্ডু জানিয়েছেন, দুর্গাপূজায় নারকেলের নাড়ুর বিশেষ কদর রয়েছে। নিমন্ত্রিত অতিথিরাও নাড়ু খেতে চান। কিন্তু শহরের বাজারে নারকেল তেমন পাওয়া যাচ্ছে না। তাই মানুষ গ্রামীণ হাটে নারকেলের খোঁজ করছেন। দাম বেশি হলেও প্রয়োজনের তাগিদে সাধ্যমতো কিনতে হচ্ছে। নারকেলের পাশাপাশি পূজার অন্যান্য উপকরণের দাম বাড়ায় মণ্ডপ পরিচালনায় ব্যয় সামলাতে কমিটিগুলোকে হিমশিম খেতে হচ্ছে।




