ভোলায় স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ, ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার পর মামলা; তিন কিশোর গ্রেপ্তার

ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় ১৫ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে একাধিকবার সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ধর্ষণের ঘটনার ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় বুধবার (৫ আগস্ট) ভুক্তভোগীর বড় ভাই বাদী হয়ে বোরহানউদ্দিন মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে পাঁচ কিশোর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে তিন কিশোর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। বর্তমানে ভুক্তভোগী ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগীর পরিবারের অভিযোগ অনুযায়ী, গত ২৪ জুলাই উপজেলার ইউনিয়নের একটি গ্রামের ওই কিশোরী স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে কয়েকজন তাকে মুখ চেপে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয় এবং ঘটনার ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে ওই ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি গোপন রাখতে বাধ্য করা হয়। একই কৌশলে বিভিন্ন সময়ে তাকে আরও ধর্ষণ করা হয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরিবারের দাবি, মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাতে অভিযুক্তরা ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিলে তারা বিষয়টি জানতে পারেন। এরপর ভুক্তভোগীর বড় ভাই থানায় মামলা দায়ের করেন। পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক বিচারের দাবি জানানো হয়েছে।
ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ইরফান মাহমুদ বলেছেন, ধর্ষণের অভিযোগে এক কিশোরীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও মেডিকেল পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করে প্রতিবেদন আদালতে পাঠানো হবে।
বোরহানউদ্দিন মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার তিন কিশোর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে। আদালতের মাধ্যমে তাদের জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর দুই কিশোর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।







