পেকুয়া
রাতের আঁধারে বেড়িবাঁধ কাটার চেষ্টা, এক্সকাভেটর জব্দ

কক্সবাজারের পেকুয়ার মগনামা ইউনিয়নে গভীর রাতে সরকারি উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে পানি চলাচলের পাইপ (নাসি) বসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে কাজ বন্ধ করে একটি এক্সকাভেটর ও ১৫টি নাসি জব্দ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
আজ সোমবার রাত প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার মগনামা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শরৎঘোনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বেড়িবাঁধ কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সকাভেটর এবং ঘটনাস্থলে মজুদ রাখা ১৫টি দুই ফুট ব্যাসের নাসি জব্দ করা হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সেখানে একজন গ্রাম পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এক্সকাভেটর সাহায্যে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে একাধিক নাসি বসানোর প্রস্তুতি চলছিল। এ ঘটনায় হারুন মাতবরপাড়ার জাহাঙ্গীর আলম ও নুর মুহাম্মদ, লালমিয়া পাড়ার মনু এবং শরৎঘোনার জহিরুল ইসলামের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন তারা।
তাদের অভিযোগ, অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে বেড়িবাঁধের নাসির মাধ্যমে লবণ মাঠ ও চিংড়িঘেরে পানি প্রবেশ ও নিষ্কাশন নিয়ন্ত্রণ করে আসছেন। এ সুবিধা ব্যবহারের জন্য সংশ্লিষ্ট জমির মালিকদের কাছ থেকে কানি হিসেবে অর্থ আদায় করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সড়ক নয় যেন মরণফাঁদ!
০৩ আগস্ট ২০২৬
তাদের দাবি, লবণ মৌসুমে প্রতি কানি লবণ মাঠ থেকে প্রায় তিন হাজার টাকা এবং চিংড়িঘেরের প্রতি কানি জমি থেকে চার হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়। এভাবে প্রতি মৌসুমে লক্ষাধিক টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
তবে অভিযুক্তদের দাবি ভিন্ন। তাদের ভাষ্য, সেখানে আগে থেকেই একটি নাসি ছিল। সেটি পুনঃস্থাপনের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছে আবেদন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই কাজের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছিল বলে তারা দাবি করেন।
যদিও পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল ইসলাম জানিয়েছে, ব্যক্তিগত উদ্যোগে উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের কাজের জন্য কারিগরি সমীক্ষা, পরিবেশগত প্রভাব মূল্যায়ন (ইআইএ), মহাপরিকল্পনার অনুমোদন এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীদের তত্ত্বাবধান বাধ্যতামূলক। পূর্বানুমোদন ছাড়া বেড়িবাঁধে কাটাকাটি বা কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ আইনসম্মত নয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া চ্যানেলসংলগ্ন এই উপকূলীয় প্রতিরক্ষা বেড়িবাঁধ হাজারো মানুষের বসতি, বিস্তীর্ণ লবণ মাঠ এবং চিংড়িঘেরকে জলোচ্ছ্বাস ও লবণাক্ত পানির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করে। ফলে বেড়িবাঁধ কেটে নাসি স্থাপনের যেকোনো উদ্যোগ শুধু অবকাঠামো নয়, পুরো এলাকার জনজীবন ও অর্থনীতির জন্যও বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুরুল আখতার নিলয় বলেছেন, বর্তমানে কাজ বন্ধ রয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঢাকা থেকে ফিরে এলে বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।







