আগামীর সময়

রোমিও-জুলিয়েটের রাজা-রাণী কাড়ছে নজর

রোমিও-জুলিয়েটের রাজা-রাণী কাড়ছে নজর

ছবিঃ আগামীর সময়

গত বছরের সেপ্টেম্বরে রোমিও-জুলিয়েট নামের রয়েল বেঙ্গল টাইগার দম্পতির খাঁচায় জন্ম নিয়েছিল দুই শাবক। নাম রাখা হয়েছিল রাজা-রাণী। রংপুর চিড়িয়াখানায় এবার ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীদের নজর কাড়ছে শাবকদুটি।

জন্মের তিন মাস পর রাজা-রাণীকে দেখার সুযোগ করে দেয় চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। তখন থেকেই দর্শনার্থীদের আগ্রহ তাদের ঘিরে। ঈদে চিড়িয়াখানা ঘুরতে যাওয়া বেশিরভাগ লোকজনের জটলাও বাঘের খাঁচা সামনে। বিশেষ করে শিশুরা ছয় মাস বয়সী বাঘছানা দেখে বেশ উচ্ছ্বসিত।

ঈদের তৃতীয় দিন রংপুর চিড়িয়াখানায় দেখা গেল এই চিত্র। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটছেন সবাই। ভেতরে প্রবেশের পর শিশুরা ছুটছে এক খাঁচা থেকে আরেক খাঁচায়।

রোমিও-জুলিয়েটের পাশাপাশি শিশুদের আগ্রহ বানর, জেব্রা ও সিংহ দেখায়। কুমির, ঘড়িয়াল, জলহস্তি, ঘোড়া, হনুমান, গাধা, ভালুক, হরিণ, ময়ূর, উটপাখিসহ চিড়িয়াখানার অন্য খাঁচার সামনেও ছিল জটলা।

চিড়িয়াখানার ভেতরেই অর্ধশতাধিক রাইড নিয়ে আছে একটি শিশুপার্ক। এর ভেতরে আছে ভূতুড়ে গুহা ও কৃত্রিম হ্রদ। শিশুপার্কের পরিধি বাড়ায় কয়েক বছর ধরেই চিড়িয়াখানায় বেড়েছে শিশু দর্শনার্থীদের আনাগোনা।

রোমিও-জুলিয়েটের খাঁচার সামনে কথা হয় লালমনিরহাট থেকে আসা রায়হান মিয়ার সঙ্গে। তিনি পুরো পরিবার নিয়ে এসেছেন রংপুর চিড়িয়াখানায়। বাচ্চাদের হাত ধরে ঘুরে ঘুরে দেখাচ্ছেন খাঁচাবন্দি প্রাণী।

‘বাচ্চাদের জন্যই এতদূর থেকে এখানে আসা। ঈদের এই সময়টা আনন্দময় করতে এটুকু তো করতেই হবে। বাচ্চারা বাঘ, বানর আর জলহস্তি দেখে খুবই আনন্দ পেয়েছে।’

স্ত্রীকে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন নূর মোহাম্মদ। উদ্দেশ্য, প্রকৃতির মধ্যে কিছুটা সময় কাটানো।

‘ঈদের দিন দুপুর থেকে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন এবং মাঝেমধ্যে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ছিল। এ কারণে বাইরে ঘুরতে যাইনি। আজ নির্মল বাতাস বইছে, চারপাশ শান্ত-স্নিগ্ধ, এ কারণে আমরা বের হয়েছি।’

চিড়িয়াখানার ইজারাদার হযরত আলী জানালেন, ঈদ উপলক্ষে দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি পানি পান, নামাজের ব্যবস্থা ও বিশ্রামের জন্য আছে পর্যাপ্ত আসন। নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে পুলিশ সার্বক্ষণিক নজরদারি রেখেছে। পুরো চিড়িয়াখানা সিসি ক্যামেরার আওতাভুক্ত।

রংপুর চিড়িয়াখানা ছাড়াও তাজহাট জমিদার বাড়ি ও জাদুঘর, রূপকথা থিম পার্ক, চিকলি ওয়াটার পার্ক, প্রয়াস বিনোদন পার্ক, সিটি চিকলি বিনোদন পার্ক, আনান সিটি পার্ক, গঞ্জিপুরে ভিন্নজগত, পীরগঞ্জে আনন্দনগর ও কাউনিয়ায় তিস্তা পার্কসহ আশপাশের জনপ্রিয় বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও ঘুরতে বেরিয়েছেন দর্শনার্থীরা।

উন্মুক্ত বিনোদন স্পট কালেক্টরেট সুরভি উদ্যান, পুলিশ পার্ক, টাউন হল চত্বর, কাউনিয়া তিস্তা রেলওয়ে সেতু, গঙ্গাচড়া মহিপুর তিস্তা সড়ক সেতু পয়েন্টেও দেখা গেছে ভিড়।

 সন্তান, পরিবার, বন্ধু আর প্রিয়জনদের নিয়ে ঈদের শেষদিনের ছুটি উৎসবমুখর পরিবেশে কাটাচ্ছেন দর্শনার্থীরা।

    শেয়ার করুন: