ব্যারাকে সৈনিকরা সরকার চাইলে কিছু কাজ করবেন

বর্তমানে দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় সেনাসদস্যরা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরছেন বলে জানিয়েছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে দেশের প্রয়োজনে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করছেন সেনাসদস্যরা। এরই মধ্যে অনেক সৈনিককে প্রত্যাহার করেছি; তবে ফেরানোর কার্যক্রম পুরোপুরি শেষ হয়নি। আশা করছি, কিছু সময়ের মধ্যে আমরা ব্যারাকে ফিরে যেতে পারব। তারপরও দেশের প্রয়োজনে করে যেতে হবে কিছু কাজ।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে কুমিল্লা সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। ‘যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার আমাদের প্রয়োজন মনে করবে, ততক্ষণ মাঠপর্যায়ে থেকে কিছু দায়িত্ব পালন করতে হবে। সময় সময় বিভিন্ন কাজে সরকারকে সহযোগিতা করতে হতে পারে। পাশাপাশি আমাদের প্রধান দায়িত্ব ক্যান্টনমেন্টে ফিরে প্রশিক্ষণ, যুদ্ধের প্রস্তুতি নেওয়া এবং নিজস্ব পদ্ধতিতে নিয়মিত কার্যক্রম শুরু’— যোগ করলেন তিনি।
সেনাসদস্যদের পেশাগত উৎকর্ষতা অর্জনে ফায়ারিং দক্ষতা অত্যন্ত জরুরি উল্লেখ করেন জেনারেল ওয়াকার। তার ভাষ্য, এটি সেনাসদস্যদের মৌলিক প্রশিক্ষণের অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রতি বছর এই ফায়ারিং প্রতিযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে সেনাসদস্যদের কাঙ্খিত মানোন্নয়নে।
প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন ও প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হয়। এ ছাড়া ১৭ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ ফায়ারার হন সৈনিক পিয়াল মন্ডল; ১০ পদাতিক ডিভিশন দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ ফায়ারার সৈনিক তানভীর হোসেন এবং ২৪ পদাতিক ডিভিশন শ্রেষ্ঠ নারী ফায়ারার হয়েছেন সৈনিক জবা আক্তার।
গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেয় সেনাবাহিনীর সব ফরমেশন, লজিস্টিকস্ এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ ১৭টি দল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দি অর্ডন্যান্স (এমজিও); বাংলাদেশ অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরির কমান্ড্যান্ট; কুমিল্লা এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার; সিলেট এরিয়ার জেনারেল অফিসার কমান্ডিং, ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার; সেনাসদর ও ফরমেশনগুলোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা।




