ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন জামালপুর

ছবিঃ আগামীর সময়
পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে এক জলরাশি। পাদদেশের স্বচ্ছ জলাশয়ে যেন নীল আকাশ নুয়ে পড়েছে। দূরের বন থেকে ডেকে উঠছে পাখি। এমন প্রশান্তিকর দৃশ্যের মাঝে ডুবে যাওয়ার সময় এখন। হাতে আছে ঈদের ছুটির অবসর। সেই অবসরে পরিবার-পরিজন, বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদের নিয়ে আনন্দঘন সময় কাটাতে ঘুরে আসুন প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা জামালপুরের বেশ কয়েকটি আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রের যেকোনো একটিতে।
জেলার লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্র, দৃষ্টিনন্দন মসজিদে-নূর, নৌ-টার্মিনাল, ৭০০ বছরের পুরাতন মসজিদ (গায়েবি মসজিদ), মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম, হযরত শাহ কামাল (র.)-এর মাজার, দয়াময়ী মন্দির, লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক ও যমুনা গার্ডেন সিটি পর্যটকদের দেবে অন্য রকম প্রশান্তি।
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতে বিনোদনপ্রেমীদের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠতে যাচ্ছে জামালপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলো। দর্শনীয় স্থানগুলোতে এবার পর্যটকদের ব্যাপক সমাগম ঘটবে বলে আশা সংশ্লিষ্টদের।
লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্র
বকশীগঞ্জ উপজেলায় বাংলাদেশ-ভারত এই দুই দেশের সীমানায় পাহাড়ের বুক চিরে বয়ে গেছে একটি খাল। পাহাড়ঘেরা ওই জলরাশি পর্যটন কেন্দ্রের সৌন্দর্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। অপরূপ সুন্দর প্রকৃতি। পাহাড় থেকে নেমে আসার ভূদৃশ্য যেমন মনোরম, তেমনি খালের দুই পাশে সবুজের সমারোহ ও পাহাড়ের সারি ক্লান্তিহীন সজীব রাখে সবাইকে। আর ওই জলরাশির সৌন্দর্য বাড়াতে সেখানে তৈরি করা হয়েছে মৎস্যকন্যা ও জলফোয়ারা। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনধারার টুকরো ছবি সবুজের সমারোহে যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে গড়া সবুজে ঘেরা বকশীগঞ্জের দড়িপাড়া এলাকায় তুরস্কের আদলে রাজকীয় মসজিদে-নূর। নানা শৈল্পিক কারুকাজে মার্বেল পাথরে নির্মিত দৃষ্টিনন্দন মসজিদে-নূর পর্যটকদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। ঈদের ছুটিতে দর্শনার্থীর সমাগমের সম্ভাবনা রয়েছে।
দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় রয়েছে নৌ-টার্মিনাল এবং প্রায় ৭০০ বছর পুরোনো একটি মসজিদ, যা স্থানীয়দের কাছে গায়েবি মসজিদ নামে পরিচিত। ঐতিহাসিক গুরুত্বের কারণে স্থানটিও দর্শনার্থীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম
মেলান্দহ উপজেলার ঐতিহাসিক মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রম দর্শনার্থীদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। দেশের ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই আশ্রমে প্রতিবছরই অসংখ্য পর্যটক ঘুরতে আসেন। একই সঙ্গে আধ্যাত্মিক শান্তির খোঁজে ভক্তরা ভিড় করেন হযরত শাহ কামাল (র.)-এর মাজারে।
লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক
জেলা শহরকেন্দ্রিক বিনোদনের জন্য জামালপুর পৌর শহরের বেলটিয়া এলাকার লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্ক অন্যতম আকর্ষণ। আধুনিক বিনোদন রাইড, কৃত্রিম লেক, সবুজ পরিবেশ এবং নান্দনিক সাজসজ্জা শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী দর্শনার্থীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ঈদের ছুটিতে এখানে দর্শনার্থীদের ভিড় আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়াও শহরের ২০০ বছরের পুরোনো মন্দিরটি এ জেলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে রয়েছে। হিন্দু ধর্মালম্বীদের কারুকাজমণ্ডিত জাগ্রত মন্দিরেও দর্শনার্থীদের আগমন ঘটবে।
অন্যদিকে সরিষাবাড়ী উপজেলার যমুনা গার্ডেন সিটি এবং যমুনা নদীর তীরবর্তী এলাকাগুলো খোলা আকাশের নিচে প্রকৃতির সান্নিধ্যে সময় কাটানোর জন্য অনেকের পছন্দের স্থান। নদীর পাড়ের মনোরম দৃশ্য ও খোলা পরিবেশ দর্শনার্থীদের কাছে বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
এ প্রসঙ্গে লুইস ভিলেজ রিসোর্ট অ্যান্ড পার্কের স্বত্বাধিকারী আতিকুর রহমান লুইস জানান, প্রতিটি ঈদে জামালপুরসহ আশেপাশের জেলার পর্যটকরা এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে এবারও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। আশা করছি, এবারও জামালপুর ও আশপাশের জেলার পর্যটকদের আগমন ঘটবে।
লাউচাপড়া বিনোদন কেন্দ্র এলাকার ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সদস্য জয় দাঙগু জানান, সারাবছর তেমন পর্যটক আসে না। তবে ঈদ ও শীতের মৌসুমে এখানে প্রচুর পর্যটক আসে। তখন আমাদের ভালো ব্যবসা হয়। ঈদকে ঘিরে আমরাও প্রস্তুতি নিয়েছি।
'এবারও পর্যটকদের আগমনে আমাদের ভালো ব্যবসা হবে।' আশা করেন তিনি।
এ নিয়ে মুক্তি সংগ্রাম জাদুঘর ও গান্ধী আশ্রমের বোর্ড অব ট্রাস্টি হিল্লোল সরকার বললেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানার পাশাপাশি গ্রামীণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিবছর ঈদের সময় এখানে জ্ঞানান্বেষী ও দর্শনার্থীদের ভিড় জমে।
'আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে আমরা পুরো এলাকা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি।' যোগ করেন তিনি।
ঈদের ছুটিকে ঘিরে ইতোমধ্যে জেলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা নিশ্চিত করতে নানা প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, জামালপুরের পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে ঈদের ছুটিতে আনন্দমুখর পরিবেশ থাকবে।

