সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে: শামা ওবায়েদ

সালথা উপজেলার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপ পরিদর্শনকালে কথা বলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। ছবি: আগামীর সময়
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, ‘আমরা সংখ্যালঘু শব্দে বিশ্বাস করি না। বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ যে ধর্মের বা বর্ণেরই হোক না কেন, সবাই সমান অধিকার নিয়ে বাঁচবে। সবার ধর্মীয় স্বাধীনতা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
গতকাল সোমবার রাতে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার সাহাপাড়া পূজামণ্ডপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি উপজেলার বিভিন্ন শারদীয় দুর্গাপূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেছেন, গত বছরের দুর্গাপূজা ও এ বছরের পূজার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে জনগণের বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে বিএনপি সরকার গঠন করেছে। এ সরকার সব ধর্মের মানুষের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
গত বছরের দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, সে সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা মন্দির কমিটির সদস্যদের সঙ্গে সমন্বয় করে সারা রাত পাহারা দিয়েছেন, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে।
চলতি বছরের দুর্গাপূজার বরাদ্দের প্রসঙ্গেও কথা বলেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। পূজামণ্ডপে উপস্থিত সনাতন ধর্মাবলম্বীদের কাছে তিনি জানতে চেয়েছেন, আগের সরকারের সময়ের তুলনায় এবার তারা বেশি বরাদ্দ পেয়েছেন কি না।
শামা ওবায়েদ বলেছেন, গত ১৭ বছর মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সময় পার করেছেন। তবে এবার সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে দুর্গোৎসব পালন করছেন। এটাই বাংলাদেশের সৌন্দর্য ও মাধুর্য। ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবার অংশগ্রহণে সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। ধর্ম কিংবা বর্ণের পরিচয়ে কাউকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। সবাই সমান অধিকার নিয়ে বসবাস করবেন, এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
নিজের বাবা ও বিএনপির সাবেক মহাসচিব কে এম ওবায়দুর রহমানের প্রসঙ্গ টেনে শামা ওবায়েদ জানিয়েছেন, তার বাবাও একসময় পূজামণ্ডপে যেতেন। জীবিত থাকাকালে তিনি ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সব মানুষের জন্য কাজ করেছেন।
এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, নিজেদের মধ্যে কোনো ধরনের কোন্দল সৃষ্টি করা যাবে না। দলাদলি পরিহার করে সবাইকে মিলেমিশে কাজ করতে হবে এবং সংগঠনকে শক্তিশালী করতে হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দবির উদ্দিন, সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবলুর রহমান খান, সালথা উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. আসাদ মাতুব্বর, বিএনপির সাবেক সহসভাপতি শাহিন মাতুব্বর, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক খায়রুল বাসার আজাদসহ বিএনপি ও এর বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।




