চট্টগ্রামে বিস্ফোরণে দগ্ধ নারীর মৃত্যু

সংগৃহীত ছবি
চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহরে বাসায় বিস্ফোরণের পর লাগা আগুনে দগ্ধ নুরজাহান আক্তার রাণীর (৩৬) মৃত্যু হয়েছে। দগ্ধ আরও ৮ জন ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন। সোমবার সন্ধ্যায় জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নুরজাহানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ওই ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন বাকি ৮ জন হলেন— নুরজাহানের স্বামী মো. সাখাওয়াত (৪৬), তার ছেলে শাওন (১৭), আনাস (৭) ও আইমান (৯) এবং সাখাওয়াতের ভাই মো. সুমন (৪০) ও স্ত্রী পাখি বেগম (৩৫), তাদের চার বছর বয়সী মেয়ে আয়েশা, সাখাওয়াতের আরেক ছোট ভাই শিপন (৩০)।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সহকারী রেজিস্ট্রার লিটন কুমার পালিত জানান, নুরজাহান ও তার স্বামী সাখাওয়াত হোসেন এবং পাখি বেগমের শ্বাসনালির শতভাগ পুড়ে যায়। শিপনের শ্বাসনালির ৮০ শতাংশ পুড়েছে। সুমন ও শাওনের পুড়েছে ৪৫ শতাংশ। আনাস, আইমান ও আয়েশার ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পুড়ে যায়। তাদের সবার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দুপুরে তাদের চমেক হাসপাতাল থেকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
‘বিকেল ৪টার দিকে কুমিল্লার নিমসার বাজারে পৌঁছার পর অ্যাম্বুলেন্সে থাকা হেলথ অ্যাসিস্ট্যান্ট বললেন, ভাবী (নুরজাহান) আর শ্বাস নিচ্ছেন না। এরপরও আমরা ঢাকায় নিয়ে আসি। এখানে চিকিৎসক পরীক্ষা করে উনাকে মৃত ঘোষণা করেছেন’, বলছিলেন আহতদের সঙ্গে ঢাকায় যাওয়া সাখাওয়াতের চাচাত ভাই জামশেদুর রহমান।
সোমবার ভোরে নগরীর হালিশহরের এইচ ব্লকে হালিমা মঞ্জিল নামে একটি ভবনের তৃতীয় তলার এক বাসায় বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিস্ফোরণে তৃতীয় তলার বাসাটি প্রায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে৷ পুরো ভবনে ১০-১২টি ফ্ল্যাটের সবগুলোই ক্ষতিগ্রস্ত। দরজা, জানালার কাচ, আসবাবপত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে, সেটা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বাসায় জমে থাকা গ্যাস থেকে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিক তথ্য ফায়ার সার্ভিসের। পুলিশের ধারণা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রকের (এসি) গ্যাস জমে কিংবা আইপিএস’র ব্যাটারির বিস্ফোরণ হতে পারে।

