দাকোপে বেড়িবাঁধে ভাঙন, আতঙ্কে হাজারো পরিবার

ছবি: আগামীর সময়
খুলনার দাকোপ উপজেলার পানখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোনা এলাকায় ঢাকি নদীর ভাঙনের মুখে পড়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ওয়াপদা বেড়িবাঁধ। খোনা মোল্লা বাড়ির সামনে এই বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় আশপাশের হাজারো পরিবার ও কৃষকেরা তাদের আমন ফসল নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন।
সরেজমিন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নয়টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত নদীবেষ্টিত দাকোপ উপজেলা মূলত তিনটি দ্বীপের সমন্বয়ে গঠিত। পানি উন্নয়ন বোর্ড ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী এই তিনটি দ্বীপকে ৩১, ৩২ ও ৩৩ নম্বর পোল্ডারে বিভক্ত করেছে। সম্প্রতি ৩১ নম্বর পোল্ডারের আওতাধীন পানখালী ইউনিয়নের খোনা মোল্লা বাড়ির সামনের ওয়াপদা বেড়িবাঁধের প্রায় ১০০ মিটার রাস্তার বেশ কিছুটা অংশ ধসে ঢাকি নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বাঁধটি যেকোনো মুহূর্তে পুরোপুরি ভেঙে বিস্তৃত এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলার কামিনীবাসিয়া, পানখালী জাবেরের খেয়াঘাট, গড়খালী আন্দারমানিক, গুনারী কালিবাড়ি লঞ্চঘাটসহ বেশ কয়েকটি স্থানে বেড়িবাঁধে ফাটল দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানালেন, কোনো না কোনো এলাকায় প্রতি বছরই বেড়িবাঁধ নদীগর্ভে বিলীন হয়, আর পানি উন্নয়ন বোর্ড নামমাত্র জোড়াতালি দিয়ে তা মেরামত করে। গত বছর বটবুনিয়া এলাকায় বাঁধ ভেঙে বহু কৃষকের রোপা আমন ধানের খেত তলিয়ে যায় এবং পুকুরের মাছ ভেসে যায়। এ বছর খোনা এলাকায় দেখা দিয়েছে ভয়াবহ ভাঙন। তবে চলতি মৌসুমেও যদি বাঁধটি পুরোপুরি ধসে পড়ে, তবে গত বছরের চেয়েও ভয়াবহ ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন বাসিন্দারা।
খোনা এলাকার বাসিন্দা লিটন মোল্লা বললেন, প্রায় ৩০ বছর ধরে আমরা এই ভাঙন দেখে আসছি। প্রতি বছরই দু-একবার বাঁধ ভেঙে ভেতরে পানি ঢোকে। ভাঙতে ভাঙতে আমাদের নিজের পরিবারসহ আশপাশের বহু মানুষের ঘরবাড়ি ও প্রায় তিনশত বিঘা ফসলি জমি ঢাকি নদীর পেটে চলে গেছে। নদী ভাঙায় আমরা একটু ভেতরের দিকে এসে নতুন করে ঘর তুলেছিলাম, কিন্তু যেভাবে ভাঙন শুরু হয়েছে, মনে হচ্ছে এখানেও আর থাকা হবে না।
সংশ্লিষ্ট ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রাশেদুল ইসলাম বাবু জানালেন, গত ২ অক্টোবর খোনা মোল্লা বাড়ির সামনে রাস্তায় ফাটল ধরে। বর্তমানে রাস্তার অর্ধেক অংশ ইতোমধ্যেই নদীতে নেমে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বহুবার পরিস্থিতি অবহিত করার পরও তারা দৃশ্যমান কোনো স্থায়ী পদক্ষেপ এখনো নেয়নি। আমাদের এলাকার হাজার হাজার মানুষ আতঙ্কের মধ্যে রাত কাটাচ্ছেন। দ্রুত টেকসই ব্যবস্থা না নিলে পুরো এলাকা পানির নিচে তলিয়ে যাবে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বোরহান উদ্দিন মিঠু বলেছেন, বাঁধ ভেঙে যেন এলাকা প্লাবিত হতে না পারে এবং মানুষের জানমালের ক্ষতি না হয়, সেজন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে দ্রুত বাঁধ সংস্কারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
খুলনা পানি উন্নয়ন বোর্ড (বিভাগ-২)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী জানিয়েছেন, সংবাদ পেয়ে আমরা খোনা মোল্লা বাড়ি সংলগ্ন এলাকাসহ ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছি। দু-একদিনের মধ্যে এসব এলাকায় কাজ শুরু করা হবে।




