গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নাটোরে ৫০ বছর ধরে লাঠি খেলা

ছবিঃ আগামীর সময়
কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে আবহমান গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠি খেলা। নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ৫০ বছর ধরে নাটোরে অনুষ্ঠিত হয় বিলুপ্তপ্রায় লাঠিখেলা। এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতি বছর ঈদের দ্বিতীয় দিন সদর উপজেলার ধরাইল মাঠে লাঠি খেলার আয়োজন করা হয়। খেলা দেখতে আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শিশু, কিশোর, বৃদ্ধ-বৃদ্ধাসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষ মাঠের চারপাশে ভিড় করেন।
প্রতি বছরের মতো এবারও ঈদের পরদিন রবিবার (২২ মার্চ) নাটোর সদর উপজেলা ধরাইল মাঠে লাঠি খেলা উৎসবের আয়োজন করা হয়। ছিল ঢাক-ঢোলের তালে তালে লাঠিয়ালদের খেলার তাকমা। প্রতিপক্ষের লাঠির আঘাত থেকে নিজেকে রক্ষা করে পাল্টা আঘাত করতে আক্রমণের চেষ্টা। লাঠিয়ালদের লাঠি ঘুরানো দেখতে মাঠে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। এই খেলায় আশপাশের বিভিন্ন এলাকার লাঠিয়াল বাহিনী অংশ নেয়। গ্রামবাংলার এই খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের একপাশে বসেছিল গ্রামীন মেলা।
স্থানীয় যুবক আরিফুল ইসলাম বলছিলেন, প্রতিবছর ঈদের পরের দিন আমাদের এই মাঠে গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা সারা বছর অপেক্ষায় থাকি এই উৎসবটির জন্য। লাঠি খেলা দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে হাজার হাজার দর্শকরা আসেন।
খেলা দেখতে আসা রবিউল ইসলাম বললেন, গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলা দেখা যায় না। আমার এক বন্ধুর কাছে শুনে, খেলা দেখতে এসেছি।অনেক ভালো লাগছে, এই প্রথম লাঠি খেলা দেখলাম।
সুমন শিকদার নামে আরেকজন জানালেন, ঈদের দ্বিতীয় দিন লাঠিখেলা দেখতে বাড়িতে আত্মীয়-স্বজনরা বেড়াতে আসেন। আমরা সবাই মিলে একসাথে এই লাঠি খেলা উপভোগ করেন তারা। এই খেলা ঈদের আনন্দকে কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। কলেজ শিক্ষার্থী সজীব হোসেন বলছিলেন, প্রতিবছরই আমরা এই লাঠি খেলা দেখতে ধরাইল মাঠে আসি। খেলাটি দেখতে অনেক আকর্ষণীয়। সবাই দেখে খুব আনন্দ পায়। আমরা চাই, প্রতিবছরই যেন এ খেলা এভাবে চালু থাকে।
খেলায় অংশ নেওয়া লাঠিয়াল আনোয়ার হোসেন বলছেন, আমরা চেষ্টা করছি, গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই খেলাকে টিকিয়ে রাখতে। এ কারণে প্রতিবছর ঈদে আমরা এ খেলায় অংশগ্রহণ করি। নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে দিতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যেন নতুন গ্রাম-বাংলার হারিয়ে যাওয়া খেলাটি নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে পারি।

