বাউফল
সার ডিলার নিয়োগ পেলেন আ. লীগ পরিবারের সদস্য, বিএনপিতে ক্ষোভ

কাইউম হোসেন মৃধা
পটুয়াখালীর বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগ সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য কাইউম হোসেন মৃধাকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তার ভাই আসাদ মৃধা ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। অতীতে এই পরিবারের সদস্যদের হাতে বিএনপির নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।
গতকাল রবিবার যাচাই-বাছাই কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে কাইউম হোসেন মৃধাকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। এ নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, কাইউমের বাবা একসময় নুরাইনপুর বাজারে সারের ব্যবসা করতেন। পরে তার ছেলে আসাদ মৃধা ছাত্রলীগের রাজনীতিতে যুক্ত হন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আসাদ আত্মগোপনে চলে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরপর তার ভাই কাইউম সারের দোকান পরিচালনা করছেন।
স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, অতীতে এই পরিবারের সদস্যদের হাতে দলের অনেক নেতাকর্মী নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এমন অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও পরিবারের একজনকে সার ডিলার নিয়োগ দেওয়ায় তারা হতাশা প্রকাশ করেছেন।
সূর্যমনি ইউনিয়নের নুরাইনপুর এলাকার বাসিন্দা ও বিএনপি নেতা ফুয়াদ হোসেন বলেছেন, ভাবতে কষ্ট হয় যাকে সারের ডিলার দেওয়া হয়েছে, তার ভাই সূর্যমনি ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। তার পরিবারের সবাই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ‘সার ডিলার নিয়োগের নিয়ম-নীতিমালা ২০২৫’ এবং ‘সার ডিলার নিয়োগ ও সমন্বিত সার ব্যবস্থাপনা ২০২৬’ অনুযায়ী ডিলার নিয়োগের জন্য জেলা কমিটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। প্রথম দফায় বাউফল থেকে ৭৩ জন আবেদন করেন। পরে আবেদনের সময়সীমা বাড়িয়ে পুনরায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে আরও ৩৫ জন আবেদন করেন। দুই দফায় মোট আবেদনকারীর সংখ্যা দাঁড়ায় ১০৮ জনে।
আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য জেলা কমিটি উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। উপজেলা কমিটি বিধি অনুযায়ী সরেজমিনে আবেদনগুলো যাচাই করে জেলা কমিটির কাছে পাঠায়। পরে জেলা কমিটি তিনজনের নাম সুপারিশ করে মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে ইউনিয়নভিত্তিক একজন করে ডিলার নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সার ডিলার কাইউম হোসেন মৃধার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
বাউফল উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মিলন বলেছেন, জেলা কমিটি আবেদনগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য উপজেলা কমিটির কাছে পাঠায়। তারা বিধি অনুযায়ী সরেজমিন আবেদনগুলো যাচাই করে পুনরায় জেলা কমিটির কাছে পাঠিয়েছেন। পরবর্তী কার্যক্রম জেলা যাচাই-বাছাই কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। মন্ত্রণালয় থেকে ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ চূড়ান্ত করা হয়।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বজনপ্রীতির কোনো সুযোগ নেই।




