ঝিনাইদহে জামায়াতের সঙ্গে সংঘর্ষে বিএনপিকর্মী নিহত

সংগৃহীত ছবি
ঝিনাইদহ সদরে বিএনপি-জামায়াতের সংঘর্ষে আহত বিএনপিকর্মী তরু মিয়ার (৫০) মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার রাতে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তিনি মারা যান।
এদিন বেলা ১১টার দিকে উপজেলার গান্না ইউনিয়নের মাধবপুর গ্রামে ঘটে এই সংঘর্ষ।
নিহত তরু মিয়া মাসখানেক আগে প্রবাস থেকে ফিরেছিলেন। তার বাড়ি মাধবপুর গ্রামে। দেশে ফিরে তিনি বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হন। তার ছেলে শিপন রহমান ইউনিয়ন ছাত্রদলের কর্মী।
ঝিনাইদহ সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু এই মৃত্যুর দায় দেন স্থানীয় জামায়াত নেতা-কর্মীদের ওপর।
গান্না ইউনিয়ন জামায়াতের আমির মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের অভিযোগ, বেলা আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপুরে জামায়াতের নারী কর্মীদের একটি অনুষ্ঠান চলছিল। এ সময় স্থানীয় বিএনপির কর্মীরা সেখানে এসে সভা বন্ধ করতে বলায় জামায়াতের কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। এতেই বাঁধে সংঘর্ষ। আহত জামায়াত কর্মীরা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
অন্যদিকে সদর উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেনের দাবি, জামায়াতের নারী কর্মীরা আলোচনা সভায় সরকার ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের কটাক্ষ করে বক্তব্য দিচ্ছিলেন। এ সময় তারা প্রতিবাদ জানান। জামায়াত কর্মীরা উল্টো লাঠিসোঁটা নিয়ে হামলা চালালে বাঁধে সংঘর্ষ।
এতে বিএনপির অন্তত সাত কর্মী আহত হয়েছেন বলে জানান তিনি। এর মধ্যে ছিলেন তরু মিয়া ও তার ছেলে শিপন। তাদের স্থানীয় হাসপাতালে নেয়ার পর তরুকে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যালে। সেখানে রাতে তার মৃত্যু হয়।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) শেখ বিল্লাল হোসেন জানালেন, এই মৃত্যুর খবরে এলাকায় ফের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব ও সেনাসদস্যরা টহল দিচ্ছেন। তরু মিয়ার মৃত্যু ও সংঘর্ষের ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

