আগামীর সময়

ভারতে পাচার হচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর

ভারতে পাচার হচ্ছে বেওয়ারিশ কুকুর

সংগৃহীত ছবি

রাঙ্গামাটির লংগদু উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মালিকবিহীন কুকুর বেআইনিভাবে ধরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, চক্রটির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা নিজেদের পাংখোয়া জনগোষ্ঠীর সদস্য বলে পরিচয় দিচ্ছেন।


স্থানীয়রা জানিয়েছে, এসব প্রাণী তারা নিজেদের খাওয়ার জন্য শিকার করছেন। তবে ধারণা করা হচ্ছে, শিকার করা কুকুরগুলোর একটি বড় অংশ ভারতের মিজোরামে পাচার করে দেওয়া হয়।


সম্প্রতি লংগদু উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিশেষভাবে তৈরি বাঁশের ফাঁদ ব্যবহার করে কুকুর ধরা হচ্ছে। পরে নৌকায় করে কাপ্তাই হ্রদ পাড়ি দিয়ে কুকুরগুলো বরকল উপজেলায় নেওয়া হয়। সেখান থেকে সীমান্তবর্তী পথ ধরে এসব প্রাণী পাচার করা হয় ভারতে। শুধু লংগদুই নয়, পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থান থেকেও কুকুর সংগ্রহ করছে চক্রটি। প্রশাসনের নজরদারি এড়াতে তারা বর্তমানে দুর্গম উপজেলা ও সীমান্তঘেঁষা গ্রামগুলোকে টার্গেট করছে বলে অভিযোগ রয়েছে।


জানা গেছে, ভারতের মিজোরাম রাজ্যে আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠেয় কৃষিভিত্তিক বসন্ত উৎসব ‘চাপচার কুট’কে কেন্দ্র করে কুকুরের মাংসের চাহিদা বাড়ে। ওই সময়ে একটি কুকুর ৭ থেকে ১২ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। উল্লেখ্য, মিজোরামে কুকুর জবাই ও বিক্রি আইনত নিষিদ্ধ। ফলে উৎসবকে সামনে রেখে বাংলাদেশ থেকে কুকুর পাচারের তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছে চক্রটি।


২০১৯ সালের প্রাণীকল্যাণ আইন অনুযায়ী, মালিকবিহীন কুকুর বা অন্য কোনো প্রাণী শিকার করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এটি পরিবেশের জন্যও হানিকারক। শুধু তাই নয়, কুকুর জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগের বাহক হওয়ায় তাদের মাংস খাওয়া মানবদেহের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। প্রাণীকল্যাণ আইন প্রণয়নের অন্যতম উদ্দেশ্য হলো জলাতঙ্ক নির্মূল কার্যক্রম সুরক্ষিত করা। কোনো এলাকা থেকে ভ্যাকসিন দেওয়া কুকুর সরিয়ে নিলে সেখানে একটি শূন্যস্থান তৈরি হয়। পরে ওই এলাকায় ভ্যাকসিনবিহীন কুকুরের আগমন ঘটলে জলাতঙ্ক ছড়ানোর আশঙ্কা তৈরি হয়। আইনটি মূলত নির্বিচারে কুকুর অপসারণ রোধ করার জন্যই প্রণীত হয়েছে।


নেচার অ্যান্ড বায়োডাইভারসিটি অব সিএইচটির সংগঠক প্রান্ত রনি বলেন, প্রাণী সুরক্ষা আইন অনুযায়ী মালিকবিহীন কোনো প্রাণীকে ধরা বা মেরে ফেলা দণ্ডনীয় অপরাধ। বিশেষ করে কুকুর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। প্রতিটি প্রাণীর জীবনচক্র তার বেঁচে থাকা ও বংশবৃদ্ধির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত কুকুরকে ভ্যাক্সিনেশনের মাধ্যমে নিরাপদ করা, যাতে তারা সমাজের জন্য ভয়ের কারণ না হয়।


রাঙ্গামাটি জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মঈনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, পথে ঘুরে বেড়ানো বেওয়ারিশ কুকুরের স্বাস্থ্যগত অবস্থা অজানা থাকায় তারা জলাতঙ্কসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত থাকার আশঙ্কা থাকে। ভেটেরিনারি পরীক্ষা ছাড়া এসব প্রাণী জবাই ও ভক্ষণ করলে তা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।


    শেয়ার করুন: