বান্দিরবানের সাংগ্রাইং উৎসব ১৩ এপ্রিল থেকে

ছবিঃ আগামীর সময়
বান্দরবানের ঐতিহ্যবাহী 'সাংগ্রাইং পোয়ে' উৎসব আগামী ১৩ এপ্রিল থেকে বান্দরবানে শুরু হচ্ছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ট জনজাতি গত দেড় শ বছর ধরে পুরাতন বছরকে বিদায় এবং নতুন বর্ষবরণকে কেন্দ্র করে এই উৎসব উদযাপন করে আসছে।
বুধবার ১৮ মার্চ সকালে বান্দরবান প্রেসক্লাব মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে উৎসব উদযাপন পরিষদ এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বান্দরবান জেলা উৎসব উদপন পরিষদের সভাপতি চনু মং মারমা বিস্তারিত কর্মসুচি তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে পরিষদ নেতা লুবু মারমা, পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উক্যচিং মারমা উপস্থিত ছিলেন।
চনু মিং সাংবাদিকদের জানান, ১৩ এপ্রিল সকালে বান্দরবান শহরের রাজার মাঠ থেকে ট্র্বডিশনাল পোষাক ও বাধ্যযন্ত্র সহকারে বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে ৪দিনব্যাপী 'সাংগ্রাইং পোয়ে-২০২৬' উৎসব শুরু হবে।
আনন্দ শোভাযাত্রা শেষে স্থানীয় কেএসআই মিলনায়তনে প্রবীণপুজা অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ করেন তিনি।
চনু মং জানান, ১৫ ও ১৬ এপ্রিল অপরাহ্নে অনুষ্ঠিত হবে উৎসবের প্রধান অনুষঙ্গ 'মৈত্রী পানি বর্ষণ/ওয়াটার ফ্যাস্টিভাল।'
এ ছাড়া ১৪ এপ্রিল রাতে পাড়ায় পাড়ায় পিঠা বানানো উৎসবের আয়োজন থাকবে।
যুগ যুগব্যাপী পার্বত্য চট্টগ্রামের ১১টি জাতিস্বত্ত্বার মধ্যে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, ম্রো, তঞ্চঙ্গা, কেয়াং, খুমি ও চাকসহ কমপক্ষে ৮টি জনজাতি/ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন নামে নববর্ষ উদিযাপন করে আসছিল। কিন্তু গত দু'যুগেরও বেশি সময় যাবৎ (পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি/শান্তিচুক্তি সম্পাদনের পর থেকে) উৎসবটি 'বৈসাবি' হিসেবে উদযাপন করা হচ্ছে।
ত্রিপুরা জনজাতির বর্ষবরণ উৎসব 'বৈসুক' থেকে বৈ, মারমা জনজাতির বর্ষবরণ উৎসব 'সাংগ্রাইং' থেকে সা এবং চাকমা জনজাতির বর্ষবরণ উৎসব 'বিজু' থেকে বি নিয়ে এই নামকরণ করা হয়।
মারমা সাংস্কৃতিক সংগঠকরা বলেছেন,এতদস্বত্ত্বেও সাংগ্রাইং উৎসবিকে নতুন নতুন নামের আড়ালে ঢেকে দেয়া যায় নি। বান্দরবান এবং রাঙ্গামাটির চন্দ্রঘোণা, কাপ্তাইসহ আরো কিছু এলাকায় মারমা জনগোষ্ঠী এখনো মহাসমারোহে তাদের সাংগ্রাইং উৎসবকে নানা বৈচিত্রপুর্ণ আয়োজন দিয়ে বাঁচিয়ে রেখেছে।

