মাথা গোঁজার ঠাঁই মিললেও কাটেনি জীবিকার সংকট

খাগড়াছড়ি পৌরসভার রসুলপুরের আবাসন প্রকল্পের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক নারী। ছবি: আগামীর সময়
খাগড়াছড়ি পৌরসভার তত্ত্বাবধানে ২০২৫ সালের নভেম্বরে জেলা সদরের শালবন এলাকার রসুলপুরে চালু করা হয় একটি আবাসন প্রকল্প। সেখানে ৬০টি দুস্থ পরিবার মাথা গোঁজার ঠাঁই পেলেও জীবিকার সংকট কাটেনি।
প্রকল্পে আশ্রয় পাওয়া পরিবারগুলোর কেউ প্রতিবন্ধী, কেউ বিধবা। অধিকাংশই দিনমজুর ও নিম্নবিত্ত পরিবারের। শহর থেকে দূরে হওয়ায় কাজের সুযোগ কম। অন্যদিকে, রান্না ও আয়বর্ধক কাজের নানা সীমাবদ্ধতায় পরিবারগুলোকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
খাগড়াছড়ি পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রসুলপুরে প্রায় দুই একর জায়গার ওপর একটি টিলায় আবাসন প্রকল্পটি নির্মাণ করা হয়েছে। এখানে আছে ১৫টি দোতলা ভবন। প্রতিটি ভবনে চারটি করে ফ্ল্যাট।
প্রতিটি ফ্ল্যাটে দুটি শয়নকক্ষ, একটি বসার ঘর, একটি রান্নাঘর ও একটি বাথরুম। মোট ৬০টি পরিবারকে এসব ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পে একটি কমিউনিটি সেন্টার, যৌথ পানি সরবরাহ ব্যবস্থা ও একটি সুইমিং পুল রয়েছে। তবে সুইমিং পুলটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো পড়ে আছে।
সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, আবাসন প্রকল্পটি পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। পুনর্বাসিত পরিবারের অধিকাংশ পুরুষ কাজে বাইরে ছিলেন। প্রকল্পের খোলা জায়গায় বসে ছিলেন কয়েকজন গৃহবধূ। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আবাসন মিললেও জীবিকার নানা সংকটে আছেন তারা।
আবাসন প্রকল্পে বরাদ্দ পাওয়া শারীরিক প্রতিবন্ধী লাকি আক্তার (৩৫) জানালেন, মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ায় তিনি খুশি। নানা সীমাবদ্ধতা থাকলেও মোটামুটি ভালোই দিন কাটছে। তার বাবা নেই। মা ও ছোট বোনকে নিয়ে তিনজনের সংসার তার।
গৃহবধূ সাফিয়া খাতুন জানালেন, প্রকল্পে বসবাসকারী নারীদের অন্যতম বড় সমস্যা রান্না। ভবনের ভেতরে লাকড়ির চুলায় রান্না করা নিষেধ। অথচ গ্যাসের চুলায় রান্না করার সামর্থ্য অনেক পরিবারের নেই।
তিনি আরও জানালেন, আগের বসতভিটায় ঘরবাড়ি ভাঙাচোরা থাকলেও হাঁস-মুরগি পালন ও বাড়ির আঙিনায় শাকসবজি চাষ করে পরিবারের আয় কিছুটা বাড়ানো যেত। এখানে সে সুযোগ নেই। আবাসন প্রকল্পটি শহর থেকে দূরে হওয়ায় বাইরে কাজের সুযোগও কম। বিশেষ করে যেসব পরিবারের পুরুষ সদস্যরা কাজ করতে পারেন না, সেসব পরিবারে আর্থিক সংকট আরও তীব্র।
আবাসন প্রকল্প পরিচালনার জন্য একটি কমিটি আছে। কমিটির সভাপতি মো. ভুট্টো মিয়া জানান, প্রকল্পটি পৌরসভা বাস্তবায়ন করলেও বর্তমানে পৌরসভা তাদের কোনো সহযোগিতা করে না। শুধু নির্দিষ্ট সময় পরপর ময়লা-আবর্জনা নিয়ে যায়।
লাকড়ির চুলায় রান্না করতে না দেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, ভবনের পরিচ্ছন্নতা ও অগ্নিনিরাপত্তার কথা বিবেচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. জহির জানিয়েছেন, পুনর্বাসন এলাকাটি তুলনামূলক ছোট। অল্প জায়গায় অনেক পরিবার বসবাস করায় হাঁস-মুরগি পালনের অনুমতি দিলে ঝগড়া-বিবাদ বাড়তে পারে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তবে নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানালেন, নারীদের সেলাই, বেতের কাজসহ বিভিন্ন বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। প্রশিক্ষণের পর কমিউনিটি সেন্টারে বসে তারা এসব কাজ করতে পারবেন। এতে পরিবারের আয় বাড়াতে সহায়তা হবে।
পৌরসভার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, পুনর্বাসিত পরিবারগুলো নিজেদের উন্নতির জন্য আরও উদ্যোগী হতে পারে। পৌরসভা তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেছে। এখন পরিবারগুলোরও নিজেদের জীবিকা ও উন্নতির পথ খুঁজে নেওয়ার চেষ্টা করা প্রয়োজন।




