উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা পরিচয়ে কোটি টাকার প্রতারণা, গ্রেপ্তার ২

সরকারি ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের পরিচয় ব্যবহার করে চাকরি দেওয়ার প্রলোভনে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মো. তারেক সরকার (৪০) ও তার সহযোগী মো. পলাশ কবিরকে (৪২) গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১০।
রবিবার (২৪ মে) নরসিংদী সদর উপজেলার সঙ্গীতা মোড় এলাকা থেকে তারেক সরকার এবং ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকা থেকে পলাশ কবিরকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়েছে।
আজ সোমবার দুপুরে কেরানীগঞ্জে র্যাব-১০ এর সদরদপ্তরে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে অধিনায়ক মো. কামরুজ্জামান এ তথ্য জানান। তিনি বলেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার বিষয়টি তারা স্বীকার করেছেন।
র্যাব জানায়, মো. তারেক সরকার একজন চাকরিচ্যুত সেনাসদস্য। ২০০৬ সালে শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে তিনি সেনাবাহিনী থেকে চাকরিচ্যুত হন। পরে তথ্য গোপন করে কারা অধিদপ্তরে চাকরি নেন এবং প্রায় ১৪ বছর সেখানে কর্মরত ছিলেন। পরে বিভাগীয় মামলার কারণে সেখান থেকেও তার চাকরি চলে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, দীর্ঘদিন সরকারি চাকরিতে থাকার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করতেন। হোয়াটসঅ্যাপে ভুয়া অ্যাকাউন্ট খুলে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিতেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, গত ছয় বছর ধরে এ ধরনের প্রতারণার সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এ সময় প্রায় এক থেকে দেড় কোটি টাকা অবৈধভাবে আয় করেছেন।
র্যাব আরও জানিয়েছে, তিনি বিভিন্ন উৎস থেকে ভুয়া ও তথাকথিত ভিআইপি সিম ব্যবহার করতেন। তার বাসা তল্লাশিতে সরকারি ব্যক্তিদের সঙ্গে তার ছবি ফটোশপের মাধ্যমে যুক্ত করা একটি বাঁধাই করা ছবি উদ্ধার করা হয়, যা তিনি নিজেকে প্রভাবশালী হিসেবে উপস্থাপনে ব্যবহার করতেন।
বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে র্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে তাদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।






