আগামী সপ্তাহে বাজারে আসবে দিনাজপুরের লিচু

বাজারে পাওয়া যাবে দিনাজপুরের লিচু- আগামীর সময়
সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে লালচে গোলাপি ও সবুজ রঙের লিচু। তা পরিচর্যায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন চাষিরা। কারণ কয়েক দিন পরেই বাজারে উঠবে লাল টসটসে লিচু।
আগামী ১৫ থেকে ১৮ মে মধ্যে মাদ্রাজি জাতের লিচু বাজারে আসবে বলে আগামীর সময়কে জানিয়েছেন দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. এজামুল হক।
জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, এ বছর ৫ হাজার ৪৮৪ হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয়েছে। জেলার ১৩ উপজেলা মিলে বাগান রয়েছে ১০ হাজার ৬৬টি। এসব লিচু বাগান থেকে ৩৭ হাজার ৫০০ টন লিচু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সরকারি হিসেবে যার বাজারমূল্য দাঁড়াবে হাজার কোটি টাকা।
জেলায় চাষ হয় মাদ্রাজি, বেদানা, হাড়িয়া বেদানা, বোম্বাই, চায়না-থ্রি, চায়না-টু, কাঁঠালি ও মোজাফফরি জাতের লিচু। জেলার প্রায় সব জায়গায় কমবেশি লিচুর চাষ হয়। তবে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় সদর উপজেলার মাসিমপুর, ঘুঘুডাঙ্গা ও উলিপুর, বিরলের মাধববাটি, করলা, রবিপুর, রাজারামপুর, মহেশপুর, বটহাট ও রানীগঞ্জ, খানসামার গোলাপগঞ্জ ও কাচিনীয়া, বীরগঞ্জের সনকা ও চিরিরবন্দরের কারেন্টহাট এলাকায়। চাষের জন্য উপযোগী বেলে-দো-আঁশ মাটি হওয়ায় এসব এলাকায় লিচু চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়ছে দিন দিন।
দিনাজপুর সদর উপজেলার পালপাড়া গ্রামের লিচুচাষি আব্দুল জলিল জানান, আগামী ১০ দিনের মধ্যে মাদ্রাজি জাতের লিচু ভাঙা শুরু হবে। আমার বাগানে ১০টি মাদ্রাজি জাতের লিচু গাছ আছে। সব ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই লিচু বাজারে তুলব। আশা করছি গত বছরের তুলনায় লাভ বেশি হবে।
দিনাজপুর হর্টিকালচার সেন্টারের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. এজামুল হক জানিয়েছেন, মাদ্রাজি জাতের লিচু সবার আগে বাজারে আসে। এরপর বেদানা ও বোম্বাই জাতের লিচু বাজারে আসবে। বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও এ বছর দিনাজপুরে লিচুর ফলন ভালো হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও চাষিরা লাভবান হবেন।




