আগামীর সময়

লাগামহীন হাম, এবার মানিকগঞ্জে আক্রান্ত ১০ শিশু

লাগামহীন হাম, এবার মানিকগঞ্জে আক্রান্ত ১০ শিশু

ছবিঃ আগামীর সময়

জ্বর, কাশি ও শরীরে লালচে র‍্যাশে আক্রান্ত শিশু নিয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে বাড়ছে অভিভাবকদের ভিড়। ব্যতিক্রম নয় মানিকগঞ্জও। হঠাৎ করেই জেলাজুড়ে বেড়েছে হামের সংক্রমণ। গত ২৪ ঘণ্টায় মানিকগঞ্জের বিভিন্ন হাসপাতালে হাম আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ১০ শিশু। সবমিলিয়ে চিকিৎসাধীন ২০ শিশু।

মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন এ কে এম মোফাখখারুল ইসলাম বলছিলেন, জেলায় নতুন করে ১০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫ জন, মুন্নু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩ জন, সিংগাইর উপজেলা হাসপাতালে ১ জন ও ঘিওর উপজেলা হাসপাতালে ১ জন ভর্তি হয়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ২০ শিশুর নমুনা রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ গবেষণা ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

হাম নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেন মানিকগঞ্জ সিভিল সার্জন।

তার ভাষ্য, যারা পজেটিভ তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ডাক্তারের পরামর্শে চিকিৎসা নিলে রোগী সুস্থ হয়ে যাবে। সচেতন থাকা জরুরি। হামের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যেতে হবে। অবহেলা করা যাবে না।

দৌলতপুর উপজেলার চরকাটারি গ্রামের বাসিন্দা রুবেল মিয়া কাজ করেন ঢাকায়। মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু বিভাগের হাম ইউনিটে আগামীর সময়ের সঙ্গে কথা হয় তার।

ঈদ করতে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে বাড়ি এসেছিলেন রুবেল। ‘ঈদের পর দিন থেকে আমার ছেলের (১) প্রচণ্ড জ্বর। স্থানীয় ফার্মেসি থেকে জ্বরের ওষুধ খাওয়ানোর পরেও কমেনি। এর মধ্যে ছেলের শরীরের লালচে রঙের গুটি দেখা দেয়। দুইদিন আগে এই হাসপাতালে ভর্তি করার পর ডাক্তার বলেছেন, ছেলে হামে আক্রান্ত হয়েছে।’

হামের টিকা দেওয়া হয়েছে কিনা জানতে চাইলে রুবেল বলছিলেন, ‘ছেলে জন্মের পর চারটি টিকা দিয়েছিলাম। বাকি টিকাগুলো দেওয়া হয়নি। ছেলে আগের চেয়ে অনেকটাই সুস্থ।’
ভাতিজাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছিলেন মানিকগঞ্জ পৌরসভার সেওতা এলাকার আনজুম আরা। ‘গত সাতদিন ধরে ভাতিজার প্রচণ্ড জ্বর। বুঝতে পারিনি হামে আক্রান্ত। আজ সকালের দিকে জেলা সদর হাসপাতালে এলে ডাক্তার মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরামর্শ দেন। পরে ভাতিজার হাম হয়েছে বলে জানানো হয়।’

মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক হুমায়ুন কবীরের ভাষ্য, হাসপাতালটির শিশুবিভাগে মোট ৪৮টি বেড আছে। এর মধ্যে ৬টি বেড বিশেষায়িত শিশুদের জন্য, বাকিগুলোয় বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ভর্তি শিশু রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হামের প্রার্দুভাবে ১০টি বেডের একটি আলাদা ইউনিট করা হয়েছে। হামের টিকা না দেওয়ায় এসব শিশু সংক্রমিত হতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

স্বাস্থ্য বিভাগসূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১০টি জেলায় দেখা দিয়েছে হামের প্রকোপ। রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত এ রোগে ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। চিকিৎসা নিয়েছে অন্তত ছয় শতাধিক রোগী। শুধু মাচেই ভর্তি রোগীর সংখ্যা পাঁচ শতাধিক।

    শেয়ার করুন: