টাঙ্গাইলে অন্যের স্ত্রীকে ‘নিজের স্ত্রী’ দাবি, এলাকায় চাঞ্চল্য

গ্রাফিক্স। ছবি: আগামীর সময়
টাঙ্গাইলে নাজিম উদ্দিন নামে এক ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে অন্যের স্ত্রীকে ‘নিজের স্ত্রী’ দাবি করে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ইতোমধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের ধুলবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা শহিদুল ইসলামের স্ত্রী রেখা খাতুন। অভিযোগ উঠেছে, নাজিম উদ্দিন মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে একদল লোক নিয়ে রেখা খাতুনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে আসেন। সদর উপজেলার ১০ নম্বর হুগড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধুলবাড়ি এলাকার সদস্য নাজিম উদ্দিন।
আরও জানা গেছে, নাজিম উদ্দিন মেম্বার লোকজন নিয়ে বাড়িতে প্রবেশ করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এ সময় রেখা খাতুন চিৎকার করে জানান, তার স্বামী-সন্তান রয়েছে এবং তার সঙ্গে নাজিম মেম্বারের কোনো সম্পর্ক নেই।
রেখা খাতুনের শাশুড়ি বলেছেন, ‘আমাদের ছেলের বউয়ের সঙ্গে নাজিম মেম্বারের কোনো সম্পর্ক নেই। কিন্তু তিনি জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় দাবি করেন, রেখা তার স্ত্রী।’
রেখা খাতুনের স্বামী শহিদুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেছেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে নাজিম মেম্বার কয়েকজন সাঙ্গপাঙ্গ ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার বাড়িতে ঢোকেন। দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে অস্ত্রের মুখে আমার স্ত্রীকে তুলে নিয়ে যান। তখন আমরা সবাই ঘরে ছিলাম।’
‘আমাকে জোর করে অস্ত্রের মুখে তুলে আনা হয়েছে। এ সময় আমাকে মারধর করা হয়েছে। নাজিম মেম্বারের সঙ্গে আমার কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই।’ - এসব কথা জানিয়েছেন রেখা খাতুন।
তার দাবি, তুলে নেওয়ার সময় নাজিম মেম্বারের আত্মীয়-স্বজনসহ বেশ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে নাজিম উদ্দিন এলাকায় প্রচার করে বেড়াতেন যে রেখা তার স্ত্রী এবং তার কাছে নাকি এর প্রমাণ হিসেবে কাবিননামা রয়েছে। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নাজিম উদ্দিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রহুল আমিন বলেছেন, ‘ঘটনার রাতেই ওই নারীকে উদ্ধার করা হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি পুলিশের হেফাজতে রয়েছেন ‘
‘ওই নারী নিজেই বাদী হয়ে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ - যোগ করেন ওসি।

