বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে কুপিয়ে হত্যা, লাশ ফেলা হলো পুকুরে

গ্রাফিকস: আগামীর সময়
ঈদের পরদিনের শান্ত বিকেল। চারদিকে যখন উৎসবের আমেজ, ঠিক তখনই ভোলার বোরহানউদ্দিনে ঘটে গেল এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড। পূর্ববিরোধের জেরে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে মাইনুদ্দিন (৩৫) নামে এক যুবককে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। শুধু কুপিয়েই ক্ষান্ত হয়নি হামলাকারীরা, মৃত্যু নিশ্চিত করতে রক্তাক্ত দেহটি ফেলে দেওয়া হয় পাশের একটি পুকুরে।
ঈদের পরদিন শুক্রবার (২৯ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার দেউলা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ছোটপাতা গ্রামে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত মাইনুদ্দিন ওই গ্রামের নেছার উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা জানান, একই গ্রামের ফয়জুল্লাহর পরিবারের সঙ্গে মাইনুদ্দিনদের জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। সেই পূর্বশত্রুতার জেরে শুক্রবার বিকেলে ফয়জুল্লাহ ও তাঁর তিন ছেলে—হেলাল, বেলাল এবং তানজিল মিলে মাইনুদ্দিনকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাঁরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাইনুদ্দিনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করেন।
গুরুতর আহত অবস্থায় মাইনুদ্দিনের আর্তচিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে আসেন। ততক্ষণে হামলাকারীরা তাঁকে পুকুরে ফেলে রেখে চম্পট দেয়। স্থানীয়রা পুকুর থেকে মাইনুদ্দিনকে উদ্ধার করে দ্রুত বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। তবে হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
ছেলের এমন নির্মম পরিণতিতে ভেঙে পড়েছেন বাবা নেছারউল্লাহ। তিনি অভিযোগ করলেন, 'পূর্বপরিকল্পিতভাবে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। অভিযুক্তরা দীর্ঘদিন ধরে আমাদের পরিবারকে নানাভাবে হুমকি দিয়ে আসছিল।' এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ও কঠোর শাস্তির দাবি জানান তিনি।
এদিকে এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো এলাকায় তীব্র উত্তেজনা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং অভিযান চালিয়ে বজলুর রহমান (৫৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করে।
বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে এসেছে। ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে।






