যশোর
‘টাকা আত্মসাতে’ আ. লীগ নেত্রী আটক, পাওনা চাইতে থানায় ভিড়

সংগৃহীত ছবি
বিমা ও ঋণের লোভ দেখিয়ে কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেত্রী মাহমুদা খাতুন ও তার ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ।
আজ শনিবার দুপুরে যশোরের বড়বাজার এলাকার এইচএমএম রোড থেকে স্থানীয় জনতা তাদের আটক করে পুলিশে দেয়।
আটক মাহমুদা খাতুন যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া সদুল্লাপুর গ্রামের মৃত মনসুর আলীর মেয়ে। অন্যজন তার ছেলে তন্ময় জামান।
ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মাহমুদা দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বিমা কোম্পানির কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এবং চাকরি ও ঋণ পাইয়ে দেওয়ার নাম করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাকে আটকের খবরে বিকালে যশোর কোতোয়ালি থানায় অন্তত অর্ধশত পাওনাদার ভিড় জমান।
ভুক্তভোগী দীপু খাতুনের অভিযোগ, বিমা ও লোন পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে আমার কাছ থেকে সাড়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়েছেন মাহমুদা। তিনি ঢাকা থেকে যশোরে আসার পর আমরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এ সময় তিনি ও তার ছেলে আমার ওপর চড়াও হন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের পুলিশে দেওয়া হয়।
আরেক ভুক্তভোগী সোহেল রানা পলাশ জানান, মাহমুদা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে ৩৩৪ জনের কাছ থেকে সাড়ে ১২ লাখ এবং অন্য সাতজনের কাছ থেকে আরও ১৯ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।
মাইডাস ইনস্যুরেন্স থেকে ঋণ দেওয়ার নাম করে তার কাছ থেকে ১৬ হাজার টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন কেশবপুরের আতিউর রহমান।
স্থানীয়রা বলছেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে মাহমুদা এলাকায় প্রভাবশালী ও মামলাবাজ হিসেবে পরিচিত ছিলেন। টাকা ফেরত চাইলে তিনি উল্টো পাওনাদারদের বিরুদ্ধে চেক চুরির মামলা দিয়ে হয়রানি করতেন। তিনি এখন থাকেন ঢাকার লালবাগ এলাকায়।
যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলছিলেন, কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মা ও ছেলেকে পাওনাদারদের রোষানল থেকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। অনেক ভুক্তভোগী থানায় এসে ভিড় করেছেন। আমরা তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

