ঈদে ঘুরতে যেতে পারেন ইতিহাস-ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ দিনাজপুরে

ছবিঃ আগামীর সময়
ঐতিহাসিক স্থাপনা আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অপরূপ জেলা দিনাজপুর। জেলায় কয়েক'শ বছরের পুরনো মসজিদ, মন্দির এমনকি রয়েছে সাগর। যা ভ্রমণপিপাসু মানুষের কাছে খুবই জনপ্রিয়। এছাড়াও রয়েছে নানন্দিক স্বপ্নপুরী পার্ক, ঐতিহ্যবাহী ঈদগাহ মাঠ এবং রেল কারখানা।
এসব দর্শনীয় স্থান সব উৎসবেই দর্শনার্থীদের পদভারে মুখরিত হয়ে ওঠে। পবিত্র রমজান শেষে দরজায় কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদকে ঘিরে নাড়ির টানে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ৷ কর্মব্যস্ততাকে পাশ কাটিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে ঘুরতে পারেন দিনাজপুরের ৫ দর্শনীয় স্থান।
নয়াবাদ মসজিদ
২২৪ বছরের পুরনো মসজিদ নয়াবাদ মসজিদ। যা দিনাজপুর শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে কাহারোল উপজেলায় অবস্থিত।
১৭৯৩ সালে সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের শাসনামলে মসজিদটি নির্মিত হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিক এই মসজিদটি টেরাকোটায় কারুকার্য মণ্ডিত।
১.১৫ বিঘা জায়গার ওপর নির্মিত মসজিদটির ছাদ জুড়ে বিশাল তিনটি গম্বুজ মসজিদটিকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে। মসজিদের চার কোনে ১২.৪৫ মিটার ও ৫.৫ মিটার আকারের মসজিদের চার কোনো চারটি অষ্টভূজ মিনার এর সৌন্দর্যকে আরো বাড়িয়ে দিয়েছে। মসজিদের দেয়ালের পুরুত্ব হলো ১.১০ মিটার।
স্থানীয়দের মতে, ১৮ শতকের মাঝামাঝিতে কান্তজির মন্দির নির্মাণের সময় পশ্চিমের কোনো এক দেশ থেকে আগত মুসলমান স্থপতিরা বসবাস করতে শুরু করেন এই নয়াবাদ গ্রামে। তারাই পরবর্তীতে নিজেদের ব্যবহারের জন্য গড়ে তুলেছেন এই মসজিদটি।
কান্তজিউ মন্দির
মহাভারত, রামায়ণ ও অন্যান্য পৌরাণিক কাহিনী পোড়ামাটির ফলকে চিত্রিত করা হয়েছে কান্তজিউ মন্দিরে। যা বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস এমনকি শত বছরের ঐতিহ্য বহন করছে।
দেশের এই বিখ্যাত স্থাপনাটি নির্মিত হয়েছিল ১৮ শতকে, যার আরও একটি নাম নবরত্ন মন্দির। ঢেপা নদীর তীরে কান্তনগর গ্রামে এর অবস্থান। মন্দিরের শিলালিপি অনুসারে মহারাজা প্রাণনাথ রায় মন্দিরের কাজ শুরু করেছিলেন। ১৭২২ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর তার পুত্র মহারাজা রামনাথ রায় ১৭৫২ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ করেন।
প্রথমে মন্দিরটির উচ্চতা ছিলো ৭০ ফুট। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে ক্ষতির কারণে এটি এখন ৫০ ফুট লম্বা। শহর থেকে অটোরিকশা করেই পৌঁছা যায় কান্তজির মন্দিরে।
রামসাগর দিঘি
বাংলাদেশের বৃহত্তম দিঘি হিসেবে পরিচিত এই জলাশয়টি মূলত একটি কৃত্রিম দিঘি। পলাশী বিপ্লবের কিছু পূর্বে রাজা রামনাথ রাজ্যের পানির চাহিদা মেটাতে খনন করেছিলেন এই দিঘি। রাজার নামানুসারেই দিঘিটি পরবর্তীতে পরিচিতি পায়। বর্তমানে এটি দিনাজপুর পর্যটন বিভাগের দায়িত্বে আছে।
প্রায় চার লাখ ৩৭ হাজার ৪৯২ বর্গমিটার ক্ষেত্রফল এবং ১০ মিটার গভীরতার এই দিঘির আশপাশে বিকালে ঘুরে বেড়ানোর জন্য দারুণ জায়গা। এখানে সাঁতার কাটারও ব্যবস্থা আছে। পূর্ণিমার সময় ক্যাম্পিং করার জন্য রামসাগর বেশ জনপ্রিয় একটি স্থান।
শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে রামসাগর জাতীয় উদ্যানে যেতে ৩০ থেকে ৪০ মিনিট সময় লাগতে পারে।
দিনাজপুর রাজবাড়ী
শহরের উত্তর-পূর্বে রাজারামপুর গ্রামের কাছে রাজ বাটিকা এলাকায় অবস্থিত এই দর্শনীয় স্থানটি। রাজবাড়ী বলা হলেও ঐতিহাসিক পটভূমি অনুসারে এটি আসলে একটি জমিদার বাড়ি। দিনাজপুর জেলার ঐতিহ্য ও সমৃদ্ধির প্রতিনিধি বলতেই বোঝা হয় এই রাজবাড়ীকে। তাই সর্বসাকূল্যে ভবনের অবস্থা বেশ নাজুক থাকা সত্ত্বেও ইতিহাসপ্রেমিরা বেশ আগ্রহ নিয়ে ঘুরতে আসেন রাজবাড়ী।
এখানকার ইতিহাস সমৃদ্ধ ভবন ও জায়গাগুলোর মধ্যে রয়েছে কুমার মহল, আয়না মহল, রানী মহল, লক্ষ্মীর ঘর, আটচালা ঘর, ঠাকুর ঘর, কালিয়া জিউ মন্দির, আতুর ঘর, রাণী পুকুর এবং চম্পা তলা দীঘি। শহর থেকে যে কোনো স্থানীয় গাড়িতে করে ঘুরে আসা যায় রাজবাড়ী।
স্বপ্নপুরী পিকনিক স্পট
দিনাজপুরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গাটির অবস্থান এর ফুলবাড়ী উপজেলার আফতাবগঞ্জে। প্রায় ৪০০ একর জমির উপর গড়ে তোলা হয়েছে এই সুন্দর নকশাকৃত বিনোদন পার্কটি। কৃত্রিম হ্রদ, পাহাড়, বাগান, গাছ-গাছালি, ফুলের বাগান, প্রতিকৃতি, চিড়িয়াখানা, কৃত্রিম ফোয়ারা, ইটভাটা, ঘোড়ার রথ, শাল, হংসরাজ সাম্পান, খেলাধূলার জায়গা; সব মিলিয়ে এক সমৃদ্ধ পিকনিক স্পট এই স্বপ্নপুরী। এছাড়াও আছে মাটির কুঁড়েঘর, ডাকবাংলো এবং বাংলাদেশের ভূমি মানচিত্র।
দিনাজপুর থেকে সিএনজি বা বাসে করে স্বপ্নপুরী যাওয়া যায়। প্রধান শহর থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই ঘন্টার রাস্তা।
এছাড়াও রামসাগর, মাতাসাগর, সুখসাগর, দেশের ঐতিহ্যবাহী গোর এ শহীদ ময়দানও ঘুরে দেখতে পারেন।

