কুষ্টিয়া
এক কুকুরের কামড়ে ৪২ জন আহত

ছবি: আগামীর সময়
সন্ধ্যা নামলেই ঘরমুখো মানুষের পদচারণায় মুখর থাকে রাস্তাঘাট। কেউ ফিরছিলেন বাসায়, কেউ বা আবার একটু ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন রাস্তায়। কিন্তু বুধবার (৭ অক্টোবর) সন্ধ্যার সেই চেনা দৃশ্য মুহূর্তে রূপ নেয় আতঙ্কে। কুমারখালী পৌর শহরের হলবাজার, আমতলা ও ইন্দ্রা মোড় এলাকায় এক পাগলা কুকুরের আকস্মিক ও বেপরোয়া কামড়ে শিশু ও নারীসহ অন্তত ৪২ জন আহত হয়েছেন।
হঠাৎ করেই শহরের বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে ঘুরে পথচারীদের ওপর চড়াও হয় কুকুরটি। মুহূর্তের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে যায় সাধারণ মানুষের মাঝে। পরে স্থানীয় লোকজন দ্রুত এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতাল চত্বরে গিয়ে দেখা যায় ব্যস্ত এক দৃশ্য। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ে ক্ষতবিক্ষত মানুষগুলো চিকিৎসার জন্য ছুটে আসছেন। স্বজনদের উৎকণ্ঠা আর রোগীদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে হাসপাতালের পরিবেশ। তাৎক্ষণিকভাবে নার্স ও চিকিৎসকরা ক্ষতস্থানগুলো সাবান ও পানি দিয়ে পরিষ্কার করার পর জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া শুরু করেন।
আহতদের একজন রোকন জানান, তিনি শহরের হলবাজার এলাকায় স্বাভাবিকভাবেই দাঁড়িয়েছিলেন। হঠাৎ পেছন থেকে একটি পাগলা কুকুর এসে তার হাঁটুতে কামড় বসিয়ে চোখের পলকে পালিয়ে যায়।
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আলিফ হোসেন বলেন, সন্ধ্যায় হাসপাতালে এসে দেখি শুধু রোগী আর রোগী। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত হয়ে সবাই আসছেন। সময়মতো এই কুকুরটিকে আটক বা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে বড় ধরনের বিপদ ঘটতে পারে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনার পর কর্তৃপক্ষের বিশেষ নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে জলাতঙ্কের টিকা সরবরাহ ও প্রয়োগ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ১৭ জনকে ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। বাকি আহতরা হাসপাতালে আসায় তাদেরও পর্যায়ক্রমে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও টিকা দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে জনমনে ছড়িয়ে পড়া এই আতঙ্ক কাটাতে এবং দ্রুত কুকুরটিকে শনাক্ত করতে মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন।
কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাভিদ সারওয়ার জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি কুকুরটি দ্রুত আটকের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।



