মাধবপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
পরিবার পরিকল্পনা সেবায় সংকট

হবিগঞ্জের মাধবপুরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে পরিবার পরিকল্পনা সেবা। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। সার্জন না থাকায় পুরুষদের ভ্যাসেকটমি ও নারীদের লাইগেশন করা হচ্ছে না। পাশাপাশি ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সরবরাহও কমে গেছে। এতে সেবা নিতে এসে অনেককেই ফিরে যেতে হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, আগে স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গে চুক্তির আওতায় মেরি স্টোপস ক্লিনিক থেকে সিলেটের একজন সার্জন মাধবপুরে এসে স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করতেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের কোনো সার্জন মাধবপুরে আসছেন না। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তা নবায়ন না হওয়ায় এ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
এদিকে ইমপ্ল্যান্ট, জন্মনিয়ন্ত্রণ পিল ও কনডমসহ বিভিন্ন সামগ্রীর সরবরাহও প্রায় বন্ধ। এতে নিম্নআয়ের ও দরিদ্র পরিবারের মানুষ সমস্যায় পড়ছেন।
ছাতিয়াইন ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক আলী মনসুর আগামীর সময়কে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ওষুধপত্রের সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। সীমিত আকারে সেবা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, শিগগিরই এ সমস্যার সমাধান হবে।
মাধবপুর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুজন সাহা বলেন, সারা বাংলাদেশেই স্থায়ী বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অন্যান্য পরিবার পরিকল্পনা সেবাও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে মানুষ কাঙ্ক্ষিত সেবা পাচ্ছেন না।
তিনি জানান, তিন বছর মেয়াদি ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহারকারী অনেক নারীর মেয়াদ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। তারা ইমপ্ল্যান্ট অপসারণের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এলেও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকট রয়েছে। প্রতি মাসে ক্যাম্প করে মেয়াদোত্তীর্ণ ইমপ্ল্যান্ট অপসারণ করতে হচ্ছে। প্রয়োজনীয় কিছু সামগ্রী ব্যক্তিগতভাবে কিনতে তাকে প্রায় দুই হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ করতে হচ্ছে। বর্তমানে পাঁচ শতাধিক নারী ইমপ্ল্যান্ট ব্যবহার করছেন বলেও জানান তিনি।
শুধু উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নয়, ইউনিয়ন পর্যায়ের পাঁচটি পরিবার কল্যাণকেন্দ্রেও পরিবার পরিকল্পনা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এসব কেন্দ্রে কর্মীরা থাকলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ সামগ্রীর সংকটে নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে মাঠপর্যায়ে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইমরুল হাসান বলেন, কিছুদিনের মধ্যেই এ অবস্থার অবসান হবে।






