সৌদিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, ওমরাহ করা হলো না কুমিল্লার নাসরুল্লাহর

মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরপুরী
কুমিল্লার মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরপুরীর ওমরাহ হজ পালন করা হলো না। মক্কা যাওয়ার পথে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন তিনি। তার সঙ্গে বাংলাদেশের আরও একজনসহ বিমানবন্দরে মারা যান ১২ জন।
নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরপুরী (৩৫) কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার ঢালুয়া ইউনিয়নের বদরপুর এলাকার মাওলানা মোহাম্মদ উল্লাহর ছেলে। তিনি রাজধানীর জামিয়া আরাবিয়া রবিউল উলুম মাদ্রাসার সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
গতকাল শনিবার সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলা চালায় ইরান সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। এ সময় ১২ জন নিহত হন। তাদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি বলে নিশ্চিত করেছিল সৌদ আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ।
নিহত মোহাম্মদ নাসরুল্লাহ বদরপুরীর ভগ্নিপতি মাওলানা নাসিরুদ্দিন রবিবার রাতে নাসরুল্লাহর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে সাংবাদিকদের বলেন, নাসরুল্লাহ বদরপুরী গতকাল শনিবার ওমরার উদ্দেশে বাড়ি থেকে সৌদি আরবে রওনা হন। তিনিসহ মোট ৪৫ জনের একটি কাফেলা শনিবার রিয়াদের উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করে।
রিয়াদে দুই ঘণ্টার একটি ট্রানজিট ছিল। ট্রানজিট শেষ হয়ে মক্কার উদ্দেশে বিমানটি যখন রিয়াদের কিং খালেদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিল, ঠিক সেসময় হামলায় নিহত হন নাসরুল্লাহ বদরপুরী। এ সময় মোট ১২ জন প্রাণ হারান ঘটনাস্থলেই।
তিনি আরও জানান, নাসরুল্লাহ বদরপুরী তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে রাজধানীর কামরাঙ্গীরচর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। তার দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। ছেলেরা হলো মো. জামিল (৭) ও জাওয়াদ (২)। একমাত্র মেয়ে নাবিলা (৫)।
ভগ্নিপতি মাওলানা নাসির উদ্দিন আরও বলেন , ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হওয়ার পর গোটা পরিবার শোকে স্তব্ধ। ছোট ছোট তিন সন্তান ও স্ত্রীকে নিয়ে সংসারে তিনিই ছিলেন একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। ঘটনার পর থেকে আমরা নাসরুল্লাহর মরদেহের অপেক্ষা করছি। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো তেমন কোনো পদক্ষেপ দেখিনি। সরকারের কাছে আকুল আবেদন নাসরুল্লাহর মরদেহ যেন দ্রুত দেশে আনার ব্যবস্থা করা হয়।
নাঙ্গলকোট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু রায়হান সাংবাদিকদের বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে মৃত্যুর খবরটি পেয়েছি। মরদেহ দেশে আনার বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করা হবে।



