সাঘাটা
দিনে নীরব, রাতে সরব অবৈধ বালু ব্যবসা

ছবি: আগামীর সময়
গাইবান্ধার সাঘাটার দক্ষিণ সাথালিয়া (মাঝি পাড়া) গ্রামের সামনে যমুনা নদীর তীরে চাকরিচ্যুত বিজিবি সদস্য আলমগীর হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন এবং রাতের আঁধারে কৌশলে তা বিক্রির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের কড়াকড়ি নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও তিনি দীর্ঘদিন ধরে দাপট দেখিয়ে ও নানান অজুহাত তুলে এ অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, প্রাক্তন বিডিআর (বর্তমানে বিজিবি) সদস্য আলমগীর হোসেন বছরখানেক আগে সাঘাটার নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নদী থেকে বালু তুলে মজুদ করেছেন। পরবর্তীতে তা স্থানীয়দের কাছে চড়া দামে বিক্রি করে ইতোমধ্যে লাখ লাখ টাকার মালিক বনে গেছেন। নিজের অপকর্ম ঢাকতে ও প্রভাব খাটাতে তিনি কখনো নিজেকে নদী শাসনের ঠিকাদার, আবার কখনো সাব-ঠিকাদার পরিচয় দিয়ে থাকেন।
অভিযোগ উঠেছে, কখনো নিজেকে রাজনৈতিক নেতা আবার কখনো নদী শাসনের ঠিকাদার দাবি করে আলমগীর হোসেন এলাকায় সাধারণ মানুষের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি করছেন। কেউ প্রতিবাদ করতে গেলে তাকে দাপট দেখানোসহ মামলার ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। সম্পূর্ণ অবৈধভাবে নদী থেকে বালু তুলে প্রশাসনের সামনেই তিনি এই কারবার চালিয়ে যাচ্ছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা ও বক্তব্য জানতে আলমগীর হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, 'এ বালু এক বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাজের জন্য উত্তোলন করা হয়েছিল। ডিসি-এসপির অনুমোদন নেওয়া হয়েছে।'
এ সময় তিনি বালু বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, 'এখান থেকে কোনো বালুই বিক্রি করা হচ্ছে না।'
অনুমোদনের ধরণ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি জানান, 'এসবে লিখিত অনুমোদন দেয় না তবে ডিসি এসপি অবগত করা হয়েছিল।'
তবে সরেজমিন ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে তার দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।
এলাকাবাসীর অনেকেই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে জানান, বর্তমানে এ এলাকায় নদী শাসনের কাজ ও ব্লক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। নদী থেকে এই বালু তুলে এনে আলমগীর হোসেনই মজুদ করে রেখেছেন। তিনি দিনের বেলায় বালু বিক্রি না করে সুযোগ বুঝে গভীর রাত থেকে ভোরের আলো ফোটার আগেই ‘কাঁকড়া’ গাড়িতে করে লুকিয়ে তা বিক্রি করে দিচ্ছেন।
সাঘাটা উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কোনও রহস্যজনক কারণে তিনি পার পেয়ে যাচ্ছেন-তা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও কৌতূহল।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত'র সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি আগামীর সময়কে জানান, 'বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত নন। এ বালু উত্তোলনে আমার অনুমোদন নেই।'
তবে নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি পুরোপুরি আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে জানান, কেউ যদি সরকারি নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে বালু উত্তোলন, মজুদ কিংবা বিক্রি করে, তবে তার বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং উত্তোলনকৃত বালু জব্দ করা হবে।




