গাইবান্ধা
এক কুকুরের কামড়ে ৫ মৃত্যু, আতঙ্কে আরও ৮ জন

সংগৃহীত ছবি
গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রাম। গত ২২ এপ্রিল অল্প সময়ের ব্যবধানে ওই গ্রামে ১৩ জনকে কামড়ে আহত করে একটি কুকুর। যাদের মধ্যে গত সাতদিনে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। আর বাকি ৮ জন আহত হয়ে ভুগছেন মৃত্যু আতঙ্কে।
গত সাতদিনে মৃত্যু হওয়া ব্যক্তিরা হলেন- উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ধুবনী বাজার এলাকার মতিয়ার রহমানের স্ত্রী আফরুজা বেগম (৪০), কঞ্চিবাড়ি গ্রামের খোকা রামের স্ত্রী নন্দ রানী (৫৫), একই গ্রামের নাইব উদ্দিনের ছেলে ফুলু মিয়া (৫২), ধুবনী বাজার এলাকার আব্দুস সালামের স্ত্রী সুলতানা বেগম (৩৯) ও ছাপরহাটী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের খোকা বর্মণের ছেলে রতনেশ্বর বর্মণ (৪২)।
তাদের মধ্যে আজ বুধবার দুপুরে শারমিন সুলতানা (৫২)। এর আগে গত ৬ মে নন্দা রানী (৫৫) ও ফুলু মিয়া (৫২), ৮ মে রতনেশ্বর কুমার (৪২) এবং গতকাল ১২ মে মারা যান আফরোজা বেগম (৫০)।
এ ঘটনায় অসুস্থ হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন উপজেলার কঞ্চিবাড়ি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামের লুৎফর রহমানের স্ত্রী ফজিতন নেছা, আশরাফুল আনন্দের স্ত্রী রুমিনা বেগম, লাল মিয়ার ছেলে নজরুল ইসলাম, মৃত উমিতুল্লাহ ব্যাপারীর ছেলে হামিদুল ইসলাম, জয়নাল আবেদিনের স্ত্রী গোলেনুর বেগম, মনসুর আলীর মেয়ে মিতু আক্তার, শহিদুল ইসলামের ছেলে আতিকুর মিয়া, খাইরুল ইসলামের মেয়ে লাবন্য আক্তার ও আনিছুর রহমানের ছেলে বিজয় হোসেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, গত ২২ এপ্রিল সকালে বজরা কঞ্চিবাড়ি গ্রামে আকস্মিক ‘তাণ্ডব’ চালায় একটি কুকুর। ওইদিন একের পর এক ১৩ জনকে কামড় দিয়ে গুরুতর আহত করে কুকুরটি। আহতদের অধিকাংশের মুখ, নাক, কান ও চোখের আশপাশে আঘাত লাগে। তারা সবাই বিভিন্ন স্থান থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন। এরপর কারও কারও অবস্থা গুরুতর হলে তাদের চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয় রংপুরে।
এ বিষয়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইফফাত জাহান তুলি বলেছেন, ‘নিহত ও আহতদের পরিবারের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’ আর গাইবান্ধা জেলার সিভিল সার্জন ডা. রফিকুজ্জামান বলেছেন, ‘কুকুর কামড়ানোর পর কেউই সময়মতো চিকিৎসা নিতে যাননি। হাসপাতালে ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা ছিল।’
জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, ‘এ বিষয়ে আমাদের কোনো পদক্ষেপ নেই। এসব ইউনিয়ন পরিষদ অথবা পৌরসভা করবে। যেসব এলাকায় এমন ঘটনা ঘটবে, সেখানে কুকুরকে ভ্যাকসিন দিতে হবে। আমাদেরতো ভ্যাকসিন নেই।’
এ বিষয়ে গাইবান্ধা জেলা পরিষদের প্রশাসক অধ্যাপক ডা. মইনুল হাসান সাদিক আগামীর সময়কে বলেছেন, ‘পশুপ্রেমীদের দাবির কারণে কুকুর নিধন কার্যক্রম বন্ধ আছে। তবে জনসাধারণের নিরাপত্তার জন্য সচেতনতা প্রয়োজন। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সবাই টিকা নিলে জলাতঙ্ক থেকে রেহাই পাওয়ার কথা। এ বিষয়ে আমি গাইবান্ধার সিভিল সার্জনকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিব যাতে করে মানুষ সময়মতো ভ্যাকসিন পায় এবং মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা পায়।’




