নাটোরে সার ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ

নাটোরে সার ডিলার নিয়োগে অর্থ লেনদেনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন
নাটোরের লালপুরের কদিমচিলান ইউনিয়নে সার ডিলার নিয়োগে ১৫ লাখ টাকা আর্থিক লেনদেন ও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
নিয়োগে বঞ্চিত আবেদনকারী মো. আব্দুল হান্নান এ অভিযোগ করেছেন।
তার দাবি, প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করলেও মো. বাদশা আলমকে সার ডিলার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার চাঁদপুর বাজারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আব্দুল হান্নান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, সার ডিলার নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব শর্ত পূরণ করে তিনি আবেদন করেছিলেন এবং এর সঙ্গে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও জমা দেন। তবে চূড়ান্ত তালিকায় মেসার্স সিগমা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. বাদশা আলমের নাম ঘোষণা করা হয়।
আব্দুল হান্নানের অভিযোগ, বাদশা আলম ওই এলাকার ভোটার নন। এ ছাড়া ডিলার নিয়োগের নির্ধারিত শর্তও তিনি পূরণ করেননি। তার গুদামে ১০ টনের বেশি সার রাখার সক্ষমতা নেই এবং ছয় মাসের ব্যাংক হিসাবেও অসংগতি রয়েছে। এসব ঘাটতি থাকার পরও কীভাবে তাকে ডিলার নিয়োগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।
আব্দুল হান্নান আরও অভিযোগ করেন, বাদশা আলম ১৫ লাখ টাকার বিনিময়ে সার ডিলারের নিয়োগ পেয়েছেন।
তার ভাষ্য, একজনের মাধ্যমে প্রথমে তাকেও অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে তিনি অর্থের বিনিময়ে নিয়োগ নিতে রাজি হননি। পরে অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে বাদশা আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। এ ছাড়া বাদশা আলমের বিরুদ্ধে সুদের ব্যবসাসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও তোলেন আব্দুল হান্নান।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আব্দুল হান্নান বলেন, ‘সরকারের কাছে আকুল আবেদন, এই অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্ত করে সার ডিলার নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় সার ডিলার নিয়োগ দেওয়া হোক।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সদ্য নিয়োগ পাওয়া সার ডিলার মো. বাদশা আলম। তিনি বলেন, ‘সরকারি নিয়মনীতি ও শর্ত পূরণ করেই আবেদন করেছি। যাচাই-বাছাই শেষে আমাকে যোগ্য প্রার্থী হিসেবে সার ডিলার নিয়োগ করা হয়েছে। কোনো আর্থিক লেনদেন হয়নি, স্বচ্ছভাবে নিয়োগ হয়েছে।’ তার দাবি, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।
এ বিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাজী মো. মেশকাতুল ইসলাম বলেন, ‘নীতিমালার বাইরে বা অর্থের বিনিময়ে ডিলার নিয়োগের কোনো সুযোগ নেই। এরপরও এ ধরনের কোনো অভিযোগ থাকলে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



