কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান
কুমিল্লার ২৭ কিশোর টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে

টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্র
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার কুমিল্লার ২৭ কিশোরকে গাজীপুরের টঙ্গী শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। রবিবার (৪ অক্টোবর) আরও দুই কিশোরকে সেখানে পাঠানো হয়। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কুমিল্লা নগরীসহ জেলার ১৮টি থানায় কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু করে থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সর্বশেষ গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) গভীর রাত পর্যন্ত পাঁচটি পৃথক অভিযানে দুই সহস্রাধিক কিশোর গ্যাং সদস্যসহ মাদক ও বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৩৩ জনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। যাচাই-বাছাই শেষে মুচলেকা নিয়ে ১ হাজার ৪০৯ জনকে অভিভাবকের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
এদিকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগার সূত্র জানায়, কিশোর গ্যাংবিরোধী চলমান অভিযানের কারণে কারাগারে বন্দির সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে। কারাগারটির ধারণক্ষমতা দেড় হাজার হলেও রোববার সেখানে বন্দীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০।
সিনিয়র জেল সুপার মো. শাহ আলম খান বলেন, ‘কষ্ট করে হলেও পরিস্থিতি সামাল দেয়া হচ্ছে। সহসাই কারাগারের চারটি নতুন বহুতল ভবন উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে। আমরা চাচ্ছি যত দ্রুত চারটি ভবন উদ্বোধন করতে। ভবন চারটি চালু হলে আর বন্দীদের কোনো সমস্যা থাকবে না।’
তিনি আরও বলেন, চলমান অভিযানে কারাগারে ৫০ জন কিশোর আসে। যাদের সহসাই জামিন লাভের সম্ভাবনা নেই, আদালতের নির্দেশে এমন কিশোরদের শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হচ্ছে। এ পর্যন্ত ২৭ জনকে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। অপর কিশোররা জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।
এর আগে গত ১৮ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকা ড. নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র অপ্রতিম হত্যার ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে দুই কিশোরকে গত ২১ সেপ্টেম্বর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হয়।



