আগামীর সময়

স্বাস্থ্যমন্ত্রী

হামের টিকার জন্য বরাদ্দ ৬০৪ কোটি টাকা

হামের টিকার জন্য বরাদ্দ  ৬০৪ কোটি টাকা

দেশে হঠাৎ বেড়েছে হামে আক্রান্তের সংখ্যা। চলতি মাসে হামে অন্তত ২১ শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নতুন করে হামের টিকা কেনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। হামের টিকার জন্য ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে বলে জানালেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

গত আট বছর ধরে হামের টিকাদান কার্যক্রমে ঘাটতি থাকায় এই সংকট তৈরি হয়েছে বলে দাবি করলেন তিনি।

রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক ওষুধ শিল্প মেলা উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি জানান হাম মোকাবিলায় নেওয়া প্রস্তুতির কথা।

হামে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় দেশের প্রধান চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ডিএনসিসি ডেডিকেটেড হাসপাতালে আইসিইউ সুবিধা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারিভাবে পাঁচটি ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যার মধ্যে চারটি রাজশাহীতে পাঠানো হবে বলেও জানালেন মন্ত্রী।

‘মিজেলসের (হাম) রোগী অনেক বেড়েছে। আট বছর আগে মিজেলসের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল। এরপর কোনো সরকারই ভ্যাকসিন দেয়নি’- দাবি তার।

‘আমরা ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছি। পারচেজ কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। দ্রুত ভ্যাকসিন সংগ্রহ করে কার্যক্রম শুরু করা হবে’- যোগ করেন তিনি। 

স্বাস্থ্য খাতকে দুর্নীতিমুক্ত করাকে বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ‘আমরা যদি নিজেরাই দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান না নিই, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুশাসিত ব্যবস্থা রেখে যেতে পারব না’- মন্তব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর।

শিশুদের ৯ মাস বয়সে হামের টিকার প্রথম ডোজ এবং ১৫ মাস বয়সে দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়। অন্যদিকে ক্যাম্পেইনের সময় ৯ মাস বয়স থেকে ১০ বছরের সব শিশুকে টিকা দেওয়া হয়।

টিকা কর্মসূচির কারণে দেশে হামের প্রকোপ কমে আসলেও চলতি বছর নতুন করে বেড়েছে। বছরের প্রথম রোগী শনাক্ত হয় গত ৪ জানুয়ারি কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্পে।  ১০ জানুয়ারি ক্যাম্প এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়।

কমপক্ষে সাত জেলায় এখন রোগটি ছড়িয়ে পড়েছে বলে খবর মিলেছে। এর মধ্যে রাজশাহীতেই চলতি মাসে ১২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে হামে।

    শেয়ার করুন: