সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে: হুইপ বকুল

জাতীয় সংসদের হুইপ ও বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল এমপি বলেছেন, বাংলাদেশ সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত। হাজার বছর ধরে এ দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মিলেমিশে বসবাস করছেন এবং নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করছেন। শারদীয় দুর্গোৎসব এখন শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উৎসব নয়, এটি সর্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। এ সম্প্রীতি অক্ষুণ্ন রাখতে সব ধরনের অপশক্তি, ষড়যন্ত্র ও সাম্প্রদায়িক বিভেদ সৃষ্টির অপচেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
আজ মঙ্গলবার রাতে খুলনা নগরীর তেলিগাতী এলাকার নেপাল আশ্রম পূজামণ্ডপে আয়োজিত বিশেষ প্রার্থনা ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
রকিবুল ইসলাম বকুল বলেন, বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। এ ঐতিহ্য রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় পরিচয় মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির কারণ হতে পারে না। বরং ধর্মীয় মূল্যবোধ, মানবিকতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে। সমাজে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার দেশের প্রতিটি নাগরিকের ধর্মীয় স্বাধীনতা, সমান অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রত্যেকে যেন স্বাধীনভাবে নিজ নিজ ধর্ম পালন এবং নির্বিঘ্নে ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করা জরুরি। ধর্মীয় উপাসনালয়ের নিরাপত্তা রক্ষা ও উৎসবের শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
হুইপ বকুল উল্লেখ করেন, কোনো অপশক্তি যেন ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের যেকোনো অপচেষ্টা সম্মিলিতভাবে প্রতিহত করতে হবে। দল-মত ও ধর্মীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে মানুষের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সবাইকে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও ভালোবাসার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ, বৈষম্যহীন ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানান। উৎসবের আনন্দ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়বে এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক সৌহার্দ্যের বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সব ধর্মের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের উন্নয়ন, শান্তি ও সমৃদ্ধির পথ আরও প্রসারিত হবে বলেও মন্তব্য করেন।
নেপাল আশ্রম পূজা কমিটির ঠাকুর বিশ্বাসের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, বিএনপি নেতা মীর কায়সেদ আলী ও শেখ সাদী।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন খানজাহান আলী থানা বিএনপির সভাপতি কাজী মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আবু সাইদ হাওলাদার আব্বাস, খুলনা মহানগর যুবদলের আহ্বায়ক আব্দুল আজিজ সুমন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো. মিরাজুর রহমান মিরাজ, প্রকৌশলী সত্যনন্দ, মন্দির কমিটির উপদেষ্টা অনিমেষ সরকার, দয়াল মণ্ডল, গুরুপদ সরকার, তরুণ বিশ্বাস, কৃষ্ণ মণ্ডল এবং পূজা কমিটির সাধারণ সম্পাদক সবুজ সরকার সাধুসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি নেপাল আশ্রম পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং ভক্ত ও দর্শনার্থীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।



