দুর্গাপূজার ছুটিতে পর্যটকের ভিড়, যানজটে ভোগান্তি

ছবি: আগামীর সময়
শারদীয় দুর্গাপূজা ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা ছুটিতে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। চা-বাগান, হাওর ও প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসছেন। তাদের আগমনে স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরলেও শহর ও আশপাশের সড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। কোথাও কোথাও যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকেরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বাইক্কা বিল, চা-কন্যা ভাস্কর্য, বধ্যভূমি-৭১, নীলকণ্ঠ টি কেবিন, চা-বাগান, চম্পা লেক, চিড়িয়াখানা ও বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে পর্যটকদের উপস্থিতি বেড়েছে। পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, এ সময়ে উপজেলার হোটেল ও রিসোর্টগুলোর অধিকাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে।
নাটোর থেকে পরিবারের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসেছেন নুসরাত ফারিয়া লিজা। তিনি বলেন, প্রথমবার পরিবারের সঙ্গে শ্রীমঙ্গলে বেড়াতে এসে চারদিকে সবুজের সমারোহ দেখে খুব ভালো লেগেছে। এখানে এলে বারবার ফিরে আসতে ইচ্ছে করে। তিন দিন থেকে বিভিন্ন জায়গা ঘুরে দেখেছেন। খুব ভালো সময় কেটেছে। আজ রাতে বাড়ি ফিরে যাবেন।
ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসা বিপ্লব বণিক বলেন, শ্রীমঙ্গলে এলে একই সঙ্গে চা-বাগান, বন, হাওর ও জলপ্রপাত দেখার সুযোগ রয়েছে। তবে পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াতের সড়ক যোগাযোগ আরও উন্নত করা প্রয়োজন। যানজটের পাশাপাশি হোটেলের খাবারের মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। পর্যটননগরী হিসেবে শ্রীমঙ্গলকে আরও উন্নত করতে মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করার পাশাপাশি সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হবে।
শ্রীমঙ্গল পর্যটন সেবা সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ও শহরের গ্রিন লিফ রিসোর্টের পরিচালক এস কে দাস সুমন বলেন, শ্রীমঙ্গলের মানসম্পন্ন হোটেল, মোটেল, রিসোর্ট ও গেস্টহাউসের প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ কক্ষ আগাম বুকিং হয়েছে। পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে অগ্নিনিরাপত্তা এবং বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ জোনের ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হোসেন চৌধুরী বলেন, পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ভিড় রয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় ট্যুরিস্ট পুলিশের পাশাপাশি থানা-পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন। এখন পর্যন্ত কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শ্রীমঙ্গলের পাশাপাশি কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান, মাধবপুর লেক ও হামহাম জলপ্রপাতেও পর্যটকদের ভিড় বেড়েছে। তবে লাউয়াছড়ায় পর্যটকের চাপ বাড়ায় বনের পরিবেশ ও বন্য প্রাণীর স্বাভাবিক বিচরণ নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মোহাম্মাদ কাজী নাজমুল হক বলেন, লাউয়াছড়ায় পর্যটকের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বনের ভেতরের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বনের মধ্য দিয়ে যাওয়া সড়ক ও রেলপথে চলাচল নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা যথাযথভাবে মানা হচ্ছে না।





