‘নড়াচড়ার’ জায়গা নেই, ঢাকামুখী লঞ্চগুলোতে উপচে পড়া যাত্রী

ছবিঃ আগামীর সময়
ঈদের ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বরিশাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীরা। এক কথায় বলতে গেলে লঞ্চে ‘নড়াচড়া’ করারও বিন্দুমাত্র জায়গা নেই।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বরিশাল নদী বন্দরে দেখা গেছে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। শনিবার কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে এই চাপেই হাজারো মানুষ ছুটছেন ঢাকার পথে।
বিলাসবহুল কেবিনগুলো ঈদের অনেক আগেই বুকিং হয়ে গেছে। ফলে এখন ডেক শ্রেণীতে জায়গা পাওয়াই যেন বড় চ্যালেঞ্জ। বৃহস্পতিবার বরিশাল থেকে ঢাকায় যাত্রী বোঝাই করে ১০টি লঞ্চ গেলেও অনেকেই উঠতে পারেননি। অন্তত ৫০০ যাত্রীকে ফিরে যেতে হয়েছে বলে জানা গেছে।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর থেকেই থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে মানুষ ভিড় করতে শুরু করেন বরিশাল নদী বন্দরে। যে যার মতো লঞ্চের ডেকে জায়গা দখল করে বসে পড়েন। বিকেলের মধ্যেই ডেক শ্রেণী যাত্রীতে টইটম্বুর হয়ে যায়।
এদিন বরিশাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল ১৪টি লঞ্চ- এমভি প্রিন্স আওলাদ ১০, কীর্তনখোলা ১০, শুভরাজ ৯, এম খান ৭, সুরভী ৭, সুন্দরবন ১৫, সুন্দরবন ১৬, মানামী, অ্যাডভেঞ্চার ৯, কুয়াকাটা ২, পারাবত ১১, পারাবত ১২, পারাবত ১৮ ও রেডসান ৫। এছাড়া ভায়া কিছু লঞ্চ বরিশাল হয়ে ঢাকায় যাবে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে নদী বন্দরে যেন মানুষের ঢল নামে। লঞ্চের ডেক, কেবিনের সামনে, দ্বিতীয় তলার সামনের অংশ, এমনকি ছাদেও উঠে পড়েন যাত্রীরা। কোথাও এক চিলতে ফাঁকা জায়গা নেই।
মানামী লঞ্চের সুপারভাইজার মুহাম্মদ বাপ্পী জানান, ঈদের পর বৃহস্পতিবার, শুক্রবার ও শনিবার যাত্রী চাপ বেশি হবে এমন পূর্বাভাস ছিল। তাই এই তিন দিনের সব কেবিন ঈদের ১০ দিন আগেই বুক হয়ে যায়।
অ্যাডভেঞ্চার ৯ লঞ্চের সুপারভাইজার নূর খান মাসুদ বলেছেন, বিকাল ৪টার মধ্যেই নিচতলার ডেক যাত্রীতে পরিপূর্ণ হয়ে যায়। তবে ধারণক্ষমতার বাইরে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে না।
‘এখনও অনেকে কেবিনের জন্য ফোন করছেন, কিন্তু সব কেবিন আগেই শেষ।’ - জানিয়েছেন সুরভী লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার সায়েম।
সুন্দরবন লঞ্চের কাউন্টার ম্যানেজার শাকিল হাওলাদারের ভাষ্য মতে, ঈদের আগেই শুক্রবার ও শনিবারের কেবিনের জন্য তীব্র চাপ ছিল। আগে আসলে আগে ভিত্তিতে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
যাত্রীদের ভোগান্তির চিত্রও ছিল স্পষ্ট। সুন্দরবন ১৬ লঞ্চের যাত্রী আব্দুস সোবাহান বলেছেন, অনেক চেষ্টা করেও কেবিন পাননি। বাধ্য হয়ে কেবিনের সামনে চাদর বিছিয়ে বসে আছেন। ডেকেও জায়গা পাননি।
আরেক যাত্রী জানিয়েছেন, ডেকে জায়গা পেতে যেন যুদ্ধ করতে হয়েছে। দুপুরের পর এলে হয়তো জায়গাই মিলত না, তখন ছাদে করে যেতে হতো।
মানামী লঞ্চের কেবিন যাত্রী তাওহীদ হোসেন শুভ বলেছেন, ‘আগে থেকেই কেবিন বুক না করলে পরিবার নিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হতো। এখন কেবিনের বাইরে বের হওয়াও কঠিন হয়ে গেছে।’
এম খান ৭ লঞ্চের যাত্রী সোবাহান মিয়া জানিয়েছেন, অফিসে যোগ না দিলে চাকরি থাকবে না এই চিন্তায় যেকোনোভাবেই ঢাকায় ফিরতে হবে। বাস না পেয়ে লঞ্চে উঠেছেন, আপাতত দ্বিতীয় তলায় গামছা পেতে বসে আছেন।
বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেছেন, সন্ধ্যার পর যাত্রী চাপ অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তবে কোনো লঞ্চকেই ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ছাড়তে দেওয়া হবে না।
‘যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যাতে কোনো ধরনের দুর্ভোগ বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হচ্ছে।’ - জানিয়েছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম।

