নান্দাইলে ঝড়ের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড জনপদ

ঝড়ে গাছ পড়ে ভেঙে গেছে ঘর
ময়মনসিংহের নান্দাইলে আকস্মিক ঝোড়ো বাতাসে লণ্ডভণ্ড জনপদ। বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) বিকাল ৩টার দিকে শুরু হওয়া ঝড়ে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক গাছ উপড়ে পড়েছে। উড়ে গেছে বহু ঘরবাড়ির টিনের চাল। কোথাও বসতঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে। আবার কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি ও তার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝড়ে উপজেলার সিংরইল, মুশুল্লী, বীর বেতাগৈর, আচারগাঁও, জাহাঙ্গীরপুর ও গাংগাইল ইউনিয়ন এবং নান্দাইল পৌরসভার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেশ কয়েকটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ফসল ও গাছপালারও ক্ষতি হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বৈদ্যুতিক খুঁটি ভেঙে ও হেলে পড়েছে। ছিঁড়ে গেছে বিদ্যুতের তার। এতে পুরো উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়। পরে সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
সরেজমিনে দেখা যায়, নান্দাইল-বাকচান্দা সড়কের বিভিন্ন অংশে ঝড়ে ভেঙে ও উপড়ে পড়া গাছ পড়ে আছে। কোথাও গাছের ডালপালা সড়কজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে। আবার কোথাও বৈদ্যুতিক খুঁটি হেলে পড়ে তার মাটিতে পড়ে আছে।
উপজেলার বীর বেতাগৈর ইউনিয়নের কামটখালী গ্রামের মালেক মিয়ার বসতঘরও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঝোড়ো বাতাসে ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়। আশপাশের আরও কয়েকটি ঘরের টিনের চালও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
গাংগাইল ইউনিয়নের শিয়ালধরা গ্রামের হৃদয় মিয়ার বাড়িতে বিশাল আকৃতির একটি রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে রান্নাঘর ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি পুকুরের পাড়ও ধসে যায়। অন্যদিকে, জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কড়ইকান্দি গ্রামে বাচ্চু মিয়ার বসতঘরের ওপর দুটি বিশাল রেইনট্রি গাছ উপড়ে পড়ে। এতে পুরো বসতঘরটি ভেঙে যায়।
ক্ষতিগ্রস্ত মালেক মিয়া বলেন, ‘মুহূর্তের মধ্যে ঝড় এসে আমাদের ঘরবাড়ি লণ্ডভণ্ড করে দেয়। অনেকের ঘরের টিনের চাল উড়ে গেছে। কারও বড় বড় গাছ উপড়ে পড়েছে।’
ঝড়ের পর স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত এবং সড়ক থেকে গাছপালা সরানোর কাজ শুরু করেন।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘ঝড়ে কোথায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তার খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। ব্যাপক ক্ষতি হয়ে থাকলে ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’



